Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:২৫ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভার প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (এনকেক) আজ মৌচাক-মালিকবাগ ফ্লাইওভার প্রকল্পের সংশোধন অনুমোদন করেছে। মহানগরীর যানজট দূর করে চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার উপযোগী করে গড়ে তুলতে ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য সম্প্রসারণ এবং নকশা সংশোধন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নগরীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরে একনেকের ১৮তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা বৈঠক সভাপতিত্ব করেন। একনেক বৈঠকের পরে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, নগরবাসী যাতে ফ্লাইওভারের সর্বোত্তম সুযোগ গ্রহণ করতে পারে সেলক্ষ্যে আরো এলাকা ফ্লাইওভারের আওতায় আমার জন্য ফ্লাইওভার প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ৪৫০ মিটার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এবং কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন এই প্রকল্পের কাজের সময়সীমা হবে ২০১৭ সালে জুন নাগাদ এবং সংশোধিত ব্যয় দাঁড়াবে ১,২১৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৭৭২ কোটি টাকা এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো।
এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এখন প্রকল্পের পশ্চিম র‌্যাম্প সোনারগাঁও ক্রসিং পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে যা আগে বিএফডিসি রেল ক্রসিং পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিলো। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যানবাহন চলাচল আরো সহজ করার লক্ষ্যে ফ্লাইওভারের র‌্যাম্প রেল ক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে সম্প্রসারিত করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পাইলের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এছাড়া প্রকল্পের কাঠামোর আকার ও দৈর্ঘ্য সম্প্রসারণ, ভিত্তির নকশায় পরিবর্তন, উচ্চ মাত্রার ভূকম্পন সহ্য ব্যবস্থা সংযোজনসহ কাঠামোগত পরিবর্তন করে প্রকল্প সংশোধন করা হবে। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, একনেকে আজ আরো নয়টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই দশটি উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে ৪ হাজার ৮শ’ ৩০ কোটি টাকা। মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকার দিবে ৩ হাজার ৬শ’ ৩ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪শ’ ৫১ কোটি টাকা দিবে। প্রকল্প সহায়তা হিসেবে অবশিষ্ট ৭শ’ ৭৬ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। একনেকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে: বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, রংপুর জোন (১৩৩৪ কোটি টাকা); বাংলাদেশের নদী বক্ষে বালুতে মূল্যবান খনিজের উপস্থিতি নির্ণয় ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন প্রকল্প (৩৫.৬৩ কোটি টাকা); শিল্প মন্ত্রণালয়ে এলইডি লাইট (সিকেডি) এ্যাসেম্বেলিং প্ল্যান্ট ইন ইটিএল প্রকল্প (৩৩.৫২ কোটি টাকা); সুপ্রীম কোর্টের বিচারকেদর জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প (১৭৩ কোটি টাকা); নীলফামারি-জলঢাকা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (৬৬.৩৪ কোটি টাকা); সিরাজগঞ্জে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্প (৬৩৬ কোটি টাকা); শহীদ কামরুজ্জামান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা প্রকল্প (৭৪.৬২ কোটি টাকা); ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সহায়তা প্রকল্প ২য় পর্যায় (৬৪.১০ কোটি টাকা) এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প প্রথম পর্যায় (১১৯৩ কোটি টাকা)। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ বৈঠকে যোগ দেন। এতে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।