ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৫০ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

"মোবাইলে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা"
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন, ফাইল ফটো

“মোবাইলে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা”

কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেছেন, এখন থেকে সাধারণ কয়েদিরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের এ সুবিধা দেয়া হবে না।

আইজি প্রিজন ‘কারা সপ্তাহ-২০১৭’ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার কারা অধিদফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে কথা বলার প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু করা হবে। কারাবন্দিরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় তা মনিটরিংয়ের জন্য গোয়েন্দা সদস্যরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন এবং তাদের কথপোকথন মনিটরিং করবেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, এ সম্পর্কিত আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এ প্রক্রিয়া চালু করা হবে।। আগামী এক মাসের মধ্যেই এটি কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গত বছরের ১০ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বন্দিদের জন্য এ প্রক্রিয়া চালু করার কথা বলেছিলেন এ কথা উল্লেখ করে ইফতেখার উদ্দীন বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ-টু-আই প্রোগামের আওতায় কারাবন্দিদের ফোনে কথা বলা সংক্রান্ত ‘প্রিজন লিংক’ প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

তিনি বলেন,প্রথমে কোন বন্দি কারাগারের আসলে তার নথিপত্রে দুটি নম্বর নথিভুক্ত করা হবে। এ দুটি নম্বর বাবা-মা কিংবা স্ত্রী-সন্তানের হতে হবে।

আইজি প্রিজন বলেন, কারাগারে মাদক পাচার ঠেকাতে বডি স্ক্যানার মেশিন ক্রয় করা হচ্ছে। প্রথমে ঢাকা ও চট্টগ্রাম কারাগারের জন্য ৬ টি বডি স্ক্যানার কেনা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে সকল কারাগারের জন্য এই মেশিন সংগ্রহ করা হবে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের ৬৮ কারাগারে সাত হাজারেরও বেশি মাদকাসক্ত বন্দি রয়েছে। এসব বন্দিরা অভিনব উপায়ে কারা অভ্যন্তরে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসছে।

কারা মহাপরিদর্শক জানান, সম্প্রতি এক বন্দির সঙ্গে দেখা করতে এসে তার পরিবার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নারকেলের পুলি পিঠা পাঠায়। সন্দেহবশত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় পুলি পিঠার ভেতরে দেয়া নারকেলের মধ্যে মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, পলিথিনের ভেতর ‘গাঁজা’ ও ‘হেরোইন’ পোটলা করে তা গিলে ফেলে নিয়ে আসার মতো ঘটনাও ধরা পড়েছে।

তিনি জানান, বন্দিরা যেন লুকিয়ে মাদকদ্রব্য কারাগারে আনতে না পারে তা ঠেকাতে বডি স্ক্যান মেশিন কেনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন কারাগারের জন্য লাগেজ স্ক্যান মেশিন কেনার প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যেই দুটি মেশিন কেনা চূড়ান্ত হয়েছে। এর একটি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ও অপরটি কেরানীগঞ্জের জেলখানায় স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ত্রিশালের জঙ্গি হামলা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের কারাগারে ভেতরে রেখে বিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম নিষ্পত্তি করারও একটি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আইনের কোন ব্যত্যয় না হলে এবং আইন মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে তা চালু করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।