ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:১৬ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মোদির ঢাকা সফরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুই দিনের ঢাকা সফরে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বেশ কয়েকটি সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। মোদি দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঢাকা আসছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুই দিনের ঢাকা সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, অভ্যন্তরীন নৌ প্রটোকল, উপকূলীয় নৌ চলাচল চুক্তি, পণ্যের মান স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সহযোগিতা চুক্তি।
এছাড়াও উভয় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা; মানব পাচার প্রতিরোধ; জাল নোট পাচার প্রতিরোধ; সমুদ্রভিত্তিক ব্লু-ইকোনমির ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ঢাকা সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে উভয়দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য আনুষ্ঠানিক বৈঠকে দ্বি-পাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকের পর উভয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্থল সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত চুক্তির অনুসমর্থনের দলিল বিনিময় হবে।
তিস্তা ইস্যু নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, ‘সবকিছু রাতারাতি আসবে না, এটা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, এই বিষয়ে চুড়ান্ত ফলাফল পেতে ধৈর্য ধরতে হবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, … দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন একটি নতুন উচ্চতায় রয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক অমীমাংসিত ইস্যুর সমাধান হয়েছে, আমরা শীঘ্রই অমীমাংসিত বাকি সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হবো।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাংলাদেশ সফরের সময়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং বঙ্গবন্ধু যাদুঘরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তিনি রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ভারতের বর্ষীয়ান নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ীকে প্রদত্ত ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার অনার’ তাঁর পক্ষে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কাছ থেকে গ্রহণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের সময়ে বেশ কয়েকটি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কলকাতা-আগরতলা বাস সার্ভিস ও ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি বাস সার্ভিসের সূচনা। এছাড়া খুলনা-মংলা রেলওয়ে লাইন এবং কুলাউড়া-শাহাবাজপুর রেল সংযোগ পূনর্বহাল, শিলাইদহের কুঠিবাড়ীতে রবীন্দ্রভবন, সারদা পুলিশ একাডেমীতে একটি মৈত্রী ভবন, ফেনী নদীর উপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেষ্টিং ইন্সটিটিউশন এর একটি পরীক্ষাগার এবং একটি বর্ডার হাট উদ্বোধন করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একটি সুধী সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করবেন। সফরশেষে তিনি ৭ জুন সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করবেন।
ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।