ড. হাছান মাহমুদ
তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ফাইল ফটো

মেডিকেলে বোমা সদৃশ্য বোতল: সন্দেহ বিএনপি’র দিকে

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএসএমএমইউতে পেট্টোল বোমা সদৃশ্য বোতল উদ্ধারের ঘটনার সাথে বিএনপি’র সংযোগ আছে কিনা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। ঘটনাটি খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড বা অন্য কোন হাসপাতালে সরানোর পরিকল্পনা কি না তা তদন্ত করার উপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী আজ চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়াানজী পুকুর পাড়ের বাসভবনে এক ব্রিফিং এ সাংবাদিকদের বলেন, “এটা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন আসলে এগুলো কারা রেখেছিল। বেগম খালেদা জিয়াকে তারা সেখানে রাখতে চাননা। তারা সব সময় বলে আসছেন ইউনাইটেড হাসপাতাল কিংবা অন্যকোন বেসরকারি হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দিতে হবে। এখন সেখানে পেট্টোলবোমা সদৃশ্য জিনিস পাওয়ার পেছনে সেটির কোন সংযোগ আছে কিনা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।”

গত বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার রেজিষ্টারের কক্ষের সামনে থেকে পেট্টোল বোমাসদৃশ একটি বোতল উদ্ধার করে শাহবাগ থানার পুলিশ। এই হাসপাতালেরই আরেকটি ভবন কেবিন ব্লকের ৬২১ নম্বর কক্ষে কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন। বোমা সদৃশ্য বোতল উদ্ধারের পেছনে ‘ওপর মহলের নীলনকশা’ রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, ‘রিজভী আহমেদ কারণে অকারণে প্রতিদিনই সংবাদ সম্মেলন করেন। এই পেট্টোলবোমার সাথে রিজভী আহমেদরাই ভালো পরিচিত। তার উদ্বিগ্ন হবার কারণ জানিনা।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কর্মীরাই এর আগে পেট্টোলবোমা মানুষের উপর নিক্ষেপ করেছে। শতশত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। বাস-ট্রাক পুড়িয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে আগুনে জ্বলসে দিয়েছে। ঘুমন্ত মানুষের উপর পেট্টোলবোমা মেরেছে। এখন হাসপাতালে বোমা সদৃশ্য বস্তু পাওয়াতে বরং আমরা বেশী উদ্বিগ্ন।’

তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সব সময় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিবেননা এবং একটি বিশেষ হাসপাতালের কথা বলা হচ্ছিল বারবার। এখন বোমা সদৃশ্য বস্তু পাওয়া সেই পরিকল্পনারই কোন অংশ কিনা সেটি বরং খুঁজে বের করা দরকার।

খালেদা জিয়ার সাথে ঈদের দিন দেখা করতে না দিয়ে জেল কোড লংঘন করা হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নিজের মতো ব্যাখ্যা না দিয়ে মির্জা ফখরুলের উচিৎ ছিল জেল কোড ভালো করে পড়ে নেয়া। জেল কোডে বলা আছে উৎসবের দিনে আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবকে দেখা করতে দিতে হবে।’

মির্জা ফখরুলসহ দলের উর্ধ্বতন নেতারা খালেদা জিয়ার বন্ধুবান্ধব নয়, তারা হলেন রাজনৈতিক নেতা বা সহকর্মী উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “এখানে জেল কোডের কোন লংঘন হয়নি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলীয় উর্ধ্বতন নেতারা সেই ক্যাটাগরির মধ্যে পড়েনা। সাতজন আত্মীয়-স্বজনকে দেখা করতে দেয়া হয়েছে।”