ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:৩৩ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মুস্তাফিজুরের বোলিং তোপে ২০০ রানে অলআউট ভারত

তরুণ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং তোপে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২০০ রানে অলআউট হয়ে গেছে ভারত। বল হাতে ১০ ওভারে ৪৩ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস কথা বলেছে ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির পক্ষে। তাই প্রথম ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন ধোনি। তবে এটি যে ভুল সিদ্বান্ত ছিলো, তার প্রমাণটা দিলেন আগের ম্যাচের হিরো মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই শুন্য হাতে ওপেনার রোহিত শর্মাকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান মুস্তাফিজুর। ফলে শুরুতেই চালকের আসনে বসে যায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশকে চালকের আসন থেকে সড়াতে তিন নম্বরে নামা বিরাট কোহলিকে নিয়ে রান তোলায় মনোনিবেশ করেন আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান। দ্রুতই সেট হয়ে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে থাকেন দু’জনে। ফলে কিছুটা লাইন-লেন্থহীন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের বোলিং। কিন্তু এতেও যে হাল ছেড়ে দেবার দল, এখন আর নয় বাংলাদেশ।
তাই দ্বিতীয় উইকেটে দলের জন্য ৭২ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি ধাওয়ান-কোহলি। অকেশনাল বোলার দিয়েই ধাওয়ান-কোহলি জুটি ভাঙ্গেন অধিনায়ক মাশরাফি। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৭ বলে ২৩ রান করে নাসিরের বলে আউট হন কোহলি।
এরপর ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে উপরে উঠিয়ে এনে ধাওয়ানের সাথে ক্রিজে যোগ দেন দলপতি ধোনি। লক্ষ্য ছিলো বড় জুটি গড়ে বড় স্কোর গড়া। সে পথে ভালোই হাটচ্ছিলেন তারা। এর মাঝে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফ-সেঞ্চুরিও তুলে নেন ধাওয়ান। এই জুটিও যখন ভংকর হবার পথে, আবারো বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ এনে দেন নাসির। ৭টি বাউন্ডারিতে ৬০ বলে ৫৩ রান করা ধাওয়ানকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান নাসির।
ধাওয়ানের বিদায়ের পরের ওভারেই আবারো উইকেট শিকারের আনন্দ করে বাংলাদেশ। আজিঙ্কা রাহানের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া আম্বাতি রাইদুকে তিন বলের বেশি খেলতে দেননি রুবেল হোসেন। নাসিরের দুর্দান্ত ক্যাচে তাই শুন্য হাতেই ফিরতে হয় রাইদুকে।
১১০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুকঁতে থাকা ভারতকে এরপর সামনের দিকে টেনে নিয়ে নেন ধোনি ও সুরেশ রায়না। কিছুটা সময় নিয়ে উইকেটে ভালোভাবেই সেট হয়ে যান তারা। ফলে ধীপা হলেও স্কোর বোর্ডে রান আসছিলো ভারতের। তবে সেটি যে খুব বেশি না, তা ভালোই বুঝতে পারছিলেন ধোনি ও রায়না। কিন্তু কি আর করা! বাংলাদেশ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত-বৈচিত্র্যময়-অসম্ভব সুন্দর বোলিং কারিশমায় রান তোলা কি সম্ভব? উত্তরটা ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা দেয়ার আগেই বল হাতে দিয়ে দিয়েছেন মুস্তাফিজুর। উত্তরটা হলো- ‘না’।
৩৬তম ওভারে বল করতে এসে ৪২ ওভার পর্যন্ত ভারতের চার ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে বসার জায়গা করে দেন মুস্তাফিজুর। পঞ্চম উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে সামনে দিকে টেনে নেয়া ধোনি ও রায়নার ভাঙ্গন ধরান মুস্তাফিজুর। ৮৩ বলে গড়ে উঠা ৫৩ রানের জুটিটি ভাঙ্গে রায়নার বিদায়ে। ৫৫ বলে ৩৪ রান করেন রায়না।
এরপর মুস্তাফিজুরের তৃতীয় শিকার হন ধোনি। মুস্তাফিজুরের রহস্যময় এক ডেলিভারিতে ৭৫ বলে ৪৭ রান করে ফিরেন টিম ইন্ডিয়ার দলপতি। ধোনিকে বিদায়ের পরের বলেই অক্ষর প্যাটেলকে এলবিডব্লু’র ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজুর। ফলে হ্যাট্টিকের সম্ভাবনা তৈরি হয় বাংলাদেশের পেসের তরুণ এই সেনসেশনের। অবশ্য ৪০তম ওভারের পঞ্চম বলটি রুখে দিয়ে মুস্তাফিজুরের হ্যাট্টিক বানচাল করে দেন রবীচন্দ্রন অশ্বিন। এ যাত্রায় সফল হলেও, ৪২তম ওভারের শেষ বলে অশ্বিনকে ব্যক্তিগত ৪ রানে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজুর। সেই সাথে অভিষেকের পর টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখালেন মুস্তাফিজুর। এর আগে এমন কীর্তি গড়েছেন মাত্র একজন। জিম্বাবুয়ের পেসার ব্রায়ান ভিট্টোরি।
মুস্তাফিজুরের এমন কীর্তির কিছুক্ষণ পরই বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এসময় ভারতের সংগ্রহ ছিলো ৮ উইকেটে ১৯৬ রান। ওভার ছিলো ৪৩ দশমিক ৫ বল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ভারত : ২০০/১০, ৪৫ ওভার (ধাওয়ান ৫৩, ধোনি ৪৭, মুস্তাফিজুর ৬/৪৩)।