ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:০৮ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মুসার ১২ বিলিয়ন ডলার সুইস ব্যাংকে নেই, গেল কোথায়?

দুদকে জমা দেয়া সম্পদ বিবরণীতে মুসা বিন শমসের উল্লেখ করেন সুইস ব্যাংকে তাঁর ১২ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় ৯৩ হাজার ৬শ কোটি টাকা) জমা আছে। এই তথ্য আসলেই সঠিক কি না তা যাচাই করতে ফের তাঁকে তলব করা হয়েছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায়, আজ সোমবার বিকেলে দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত তলবি নোটিশ মুসা বিন শমসের ঠিকানা বরাবর পাঠানো হয়েছে। নোটিশে মুসা বিন শমসেরকে ১৩ জানুয়ারি সকাল ১০টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, মুসার সম্পদের অনুসন্ধান করতে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু চিঠির উত্তরে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সেখানে ওই নামে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। ফলে ওই ব্যক্তির নামে কোনো সম্পদও নেই। কিন্তু দুদকের জমা দেয়া সম্পদ বিবরণীতে সুইস ব্যাংকে তার ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থাকার কথা আছে। প্রকৃত রহস্য উন্মোচনেই তার বক্তব্য নেয়া প্রয়োজন। তাই তাকে তলব করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, মুসা বিন শমসেরকে দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেও তাঁর কাছ থেকে সুইস ব্যাংকের হিসাব নম্বর জানতে পারেনি দুদক। কমিশনে জমা দেয়া হিসাব বিবরণীতেও এ তথ্য নেই। তাই তাঁকে তৃতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে ব্যাংক হিসাব নম্বরটি না জানালে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য প্রদানে অসহযোগিতার অভিযোগে দুদক আইন-২০০৪ এর ১৯ (৩) ধারা অনুয়ায়ী মামলা দায়ের করা হতে পারে। এ অপরাধে ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তথ্য প্রদানে অসহযোগিতার অভিযোগে মামলার পর আইন অনুযায়ী অনুসন্ধান চলতে থাকবে। অনুসন্ধানে অভিযুক্তের নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেলে পরে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরেকটি মামলা করা হবে। এ মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি দুদকের চাহিদা অনুযায়ী বিএফআইইউ মুসার হিসাব সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। চিঠিতে ২০১৫ সালের ৭ জুন দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন মুসা বিন শমসের। তাঁর জমা দেয়া হিসাব অনুযায়ী সুইস ব্যাংকে তাঁর ১২ বিলিয়ন ডলার জমা রয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় ৯৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসেবে)। সম্পদ বিবরণীতে তিনি জানিয়েছেন, সুইস ব্যাংকে তাঁর এ পরিমাণ অর্থ ‘ফ্রিজ’ অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়াও সুইস ব্যাংকের ভল্টে ৯০ মিলিয়ন ডলার দামের (বাংলাদেশি প্রায় ৭শ কোটি টাকা) অলংকার জমা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ২০১৪ সালের জুন মাসে বিজনেস এশিয়া নামের একটি সাময়িকীর ঈদ সংখ্যায় মুসাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের সূত্রে একই বছরের ৩ নভেম্বর কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে মুসার সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। ওই সাময়িকীতে এই ব্যবসায়ীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তাঁর জীবনযাত্রা, আর্থিক সামর্থ্য ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করা হয়।