Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৪৬ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

মুম্বইয়ের চেয়েও বড় হামলার ছক!

নতুন করে ভারতে বড়সড় নাশকতার ছক কষা শুরু হয়েছে? সেই নাশকতা কি মুম্বই হামলার চেয়েও বড়? পান্ডা কি এ বারও সেই হাফিজ সঈদ?

গোয়েন্দাদের কাছে সম্প্রতি সে রকমই খবর আসায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। অনুপ্রবেশের চেষ্টা সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ রেখায় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নজরদারি। উপত্যকায় আরও সতর্ক গোয়েন্দা ও সেনাবাহিনী।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের খবর, ভারতে হামলা চালানোর জন্য পাকিস্তানের তিনটি জঙ্গি সংগঠন হাত মিলিয়েছে। লস্কর-ই-তৈবা, জৈশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিন এক হয়ে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিন সংগঠন থেকে বেছে নেওয়া মোট ৩০ জন জঙ্গি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখার খুব কাছে একটি লঞ্চিং প্যাডে পৌঁছে গিয়েছে বলেও গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। আগামী এক মাসের মধ্যেই তারা ভারতে ঢুকে পড়ার মরিয়া চেষ্টা চালাবে।

নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে জঙ্গিরা যে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায়, সে কথা স্বীকার করেছেন বিএসএফ-এর ডিজি ডি কে পাঠক-ও। পাঠক বলেছেন, ‘‘জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা হবে বলে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গিয়েছে। জঙ্গিরা যে হামলা করতে মরিয়া তা আমরা বুঝতে পারছি। কারণ নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতে ঢোকার জন্য তারা একের পর এক দুঃসাহসিক চেষ্টা চালাচ্ছে।’’ পাঠকের কথায়, শুধু জম্মু-কাশ্মীরে নয়, আখনুর থেকে কচ্ছের রণ পর্যন্ত দেশের গোটা পশ্চিম সীমান্তেই অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলছে। তার পথ সুগম করতে পাক রেঞ্জার্সদের তরফে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাও বার বার ঘটছে। বিএসএফ প্রধান জানিয়েছেন, এ বছর ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের দিক থেকে ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে মোট ৬২ বার। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৬ বার জঙ্গিরা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছে। যদিও এখনও পর্যন্ত অনুপ্রবেশের সব চেষ্টাই বিএসএফ ব্যর্থ করেছে বলে তিনি জানান।

লস্কর, জৈশ এবং হিজবুলের হাত মেলানোর পিছনে  মুখ্য ভূমিকা যার, সে হল মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সঈদ। মার্কিন চাপে পাকিস্তানের সরকার হাফিজের সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে ঠিকই। কিন্তু, হাফিজের স্বাধীন ঘোরাফেরা এবং ভারত বিরোধী জঙ্গিদের সংগঠিত করার কাজকর্ম বন্ধ করতে কোনও পদক্ষেপই তারা নেয়নি। হাফিজ সঈদ প্রকাশ্যে বক্তৃতা দিয়ে বলেছে, ‘‘জিহাদের পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। জিহাদের সামনে না রাশিয়া টিকতে পেরেছে, না আমেরিকা। ইনশাল্লাহ্, ভারতও টিকতে পারবে না।’’

গোয়েন্দাদের কাছে জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য এলেও, ভারতে ঢুকে তারা ঠিক কী ধরনের নাশকতা ঘটানোর ছক কষেছে বা কোথায় হামলা হতে পারে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি। এই বিষয়টি নিয়ে ঘোর উদ্বেগে প্রশাসন। তাই জঙ্গিরা যাতে ভারতে ঢুকতেই না পারে, তা নিশ্চিত করতে, বিএসএফ, সেনা ও গোয়েন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আনন্দবাজার