Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:৩২ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘মুন্সীগঞ্জে আ ‘লীগের নির্বাচনী দ্বন্দ্বে সাত নেতা গুলিবিদ্ধ’

মুন্সীগঞ্জের পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনায় কমপক্ষে সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা নাগাদ এ ঘটনা ঘটে।

মুন্সীগঞ্জের পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আবদুস সাত্তার। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন সুতা ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা।

গোলাম মোস্তফার পক্ষ বলছে, ‘ছাত্রলীগ নেতা পাভেল, তরুণ লীগ নেতা মৃদুলসহ অন্য নেতাকর্মীরা গোলাম মোস্তফার কারখানার কার্যালয়ে এসে তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দেয়। কিন্তু নির্বাচন থেকে সরে না জানানোর কথা বলায় তরুণ লীগ নেতা মৃদুল গোলাম মোস্তফাকে লক্ষ্য করে কয়েকটি পিস্তলের গুলি ছোড়ে। কিন্তু বেচে যান গোলাম মোস্তফা। ওই সময় হামলাকারীরা গণপিটুনির শিকার হয়।

নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুস সাত্তার বলেন, ‘মুক্তারপুর এলাকায় ভোট চাইতে গেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফার লোকজন বাধা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমাদের চারজনকে ধরে নিয়ে যায়। গোলাম মোস্তফার নিটিং ফ্যাক্টরি কিং ফিশারে নিয়ে বেদম প্রহার করে। পরে পুলিশ উদ্ধার করে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, অথচ আওয়ামী লীগের লোকজনকে আটকে পিটিয়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, গোলাম মোস্তফার কারখানার কর্মীরা সাত্তারের সমর্থক তরুণ লীগ নেতা মৃদুল দেওয়ান, ছাত্রলীগ নেতা ফয়েজ আহাম্মেদ পাভেল, পলাশ ও সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের ভাতিজা আদর দাসকে কারখানার ভেতরে নিয়ে বেধড়ক পেটান। পরে পুলিশ এসে তাঁদের গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেলা তরুণ লীগের সভাপতি মৃদুল দেওয়ানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় টঙ্গিবাড়ী-সিপাহীপাড়া সড়কে আবদুস সাত্তারের সমর্থকরা দুপুরে অবরোধ করে ও গাড়ি ভাঙচুর চালায়। এরপর আবার ৩ টার দিকে শহরের জুবলি রোডে দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ৩০ রা‌উন্ড গুলি ছোড়া হয় ও বাংলালিংক সেন্টার ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে মৃদুল দেওয়ান আহত হওয়ার ঘটনায় বেলা সাড়ে ৩টায় গজারিয়া উপজেলায় ভবের চর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এই সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনায় গুলিবিদ্ধরা হলেন- জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহাম্মেদ পাভেল, জেলা তরুণ লীগের সভাপতি মৃদুল দেওয়ান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের ভাতিজা আদর দাস, পলাশ, রিয়াদ, বাদল ও দুলাল।