Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:৫৫ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

মুদ্রানীতিতে অর্থনীতির নেতিবাচক পূর্বাভাস

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত মুদ্রানীতিতে দেশের অর্থনীতির কিছু সূচকের অবস্থা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নেতিবাচক পর্যায়ে চলে যাবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বাড়বে, রফতানির চেয়ে বেশি বাড়বে আমদানি, সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে নেতিবাচক অবস্থা দেখা দেবে, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) সামান্য বাড়বে, কমছে শেয়ারবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ, কমার তালিকায় রয়েছে অন্যান্য বিদেশী বিনিয়োগও। বৈদেশিক অনুদান, স্বল্পমেয়াদি ঋণ, দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ আরও কমে যাবে বলে মুদ্রানীতিতে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
এদিকে মুদ্রানীতিতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, মূল্যস্ফীতির হার কমানো, জিডিপির যে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেগুলোও অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন। তারা বলেছেন, স্বাভাবিক অবস্থায়ই মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এখনকার অস্থিরতার মধ্যে আরও অর্জন করা সম্ভব হবে না। যে কারণে অনেক খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ধরেছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন এই ছয় মাস মেয়াদের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এর আগে গত জুলাইয়ে জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই সময়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
মুদ্রানীতিতে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত নেট বিদেশী সম্পদের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৬ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত তা ৩ দশমিক ৬ শতাংশ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আলোচ্য সময়ে সরকারি ঋণ ১০ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ দশমিক ৩ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের ঋণ যে আরও ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে সেই ইঙ্গিতই দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ছিল ১৪ শতাংশ। কিন্তু নভেম্বর পর্যন্ত তা অর্জন হয়েছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ। এরপর আগামী ৬ মাসের জন্য তা বাড়িয়ে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল না। তার পরও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বর্তমানে যে অস্থিরতা চলছে তার মধ্যে বাড়তি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত রিজার্ভ মানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী ৬ মাসে তা বাড়িয়ে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে টাকা তুলে নিজেদের ভল্টে রাখবে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও ব্যাহত হবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতির হারকে সহনীয় রাখতে সহায়তা করবে।
গত অর্থবছরের ৬ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৬৮১ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে ৯৯১ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে। এ সময়ে রফতানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় বেশি বাড়বে। এ কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেশি দেখানো হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় অচল। এ অবস্থায় রফতানি আয় ও আমদানির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাই কঠিন হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর।
গত কয়েক বছর ধরে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত রয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ হিসাবে ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে। বছর শেষে এ ঘাটতির পরিমাণ ১৩৫ কোটি ডলার হতে পারে। গত অর্থবছরে এ খাতে উদ্বৃত্ত ছিল ১৩৫ কোটি ডলার। এর আগের বছর এ খাতে উদ্বৃত্ত ছিল ২৩৯ কোটি ডলার। ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশে এফডিআই (সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ) এসেছিল ১৭২ কোটি ডলার। গত বছর এসেছে ১৫০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে ১৬০ কোটি ডলারের এফডিআই আসবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সংশয় প্রকাশ করেছেন আহসান এইচ মনসুর। তার মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অবকাঠামো সমস্যা থাকলে বিদেশী বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। শেয়ারবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ ২০১২-১৩ অর্থবছরে এসেছিল ৩৭ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে এসেছে ৮২ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে শেয়ারবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ আসার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ কোটি ডলার।

http://www.jugantor.com/last-page/2015/02/14/220365