ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:০২ ঢাকা, শনিবার  ১৮ই আগস্ট ২০১৮ ইং

মুজিব হত্যার দায় এড়াতে পারেন না ইনু-মেননঃ তারেক রহমান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার দায় রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু এড়াতে পারেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বুধবার লন্ডনে দ্যা অ্যাট্রিয়াম অডিটরিয়ামে ৪র্থ দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব অভিযোগ করেন। দিবসটি উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি পাঁচদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

কর্নেল তাহের ও হাসানুল হক ইনুকে নিয়ে ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টের উদ্বৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর হাসানুল হক ইনু শাহবাগস্থ বেতার ভবনে গিয়ে অভ্যুত্থানের নায়কদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রতি সর্বান্তকরণে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তিনি একা যাননি, গিয়েছিলেন লে. কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের সঙ্গে। তাহের তখন জাসদের গণবাহিনীর অধিনায়ক, আর ইনু ছিলেন গণবাহিনীর পলিটিক্যাল কমিশনার।

ওই সময়ে রাশেদ খান মেননের ভূমিকা তুলে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের আরেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের দল ইউপিপি শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালের ২৯ আগস্ট এক বিবৃতিতে বলে, ‘মুজিবের অপসারণে জনগণ উল্লসিত। তার মৃত্যু কারও মনে সামান্যতম সমবেদনা বা দুঃখ জাগায়নি, জাগাতে পারে না।’  তারেক আরও বলেন, ‘এসব ঘটনায় প্রমাণিত হয়- শেখ মুজিব হত্যার দায় তৎকালীন জঙ্গি নেতা ইনু কিংবা মেননরা এড়াতে পারেন না।’

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের মেধা ও বিচক্ষণতায় বাংলাদেশ অরাজকতা ও বিশৃংখলতা থেকে রক্ষা পেরেছে। সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ তাহের-ইনুদের ষড়যন্ত্র প্রত্যাখ্যান করেছে।

৭ নভেম্বর এই চক্রটি জনপ্রিয় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের কাঁধে ভর করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিলো। জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছতে চেয়েছিলো। কিন্তু অসম সাহসী বিচক্ষণ ও দেশপ্রেমিক জিয়াউর রহমান ইনু-তাহের চক্রের ফাঁদে পা দেননি। নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ব্যর্থ হয়ে এরা এখন মিথ্যাচার ও ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে চায় বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

২০১০ সালে ৭ নভেম্বর সংখ্যায় দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হাসানুল হক ইনুর একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতিতে তারেক রহমান বলেন, তাহের ও আমার (ইনুর) মূল পরিকল্পনায় জিয়াকে গ্রেপ্তার করে আনার নির্দেশ ছিল। হাবিলদার আবদুল হাই মজুমদারের দায়িত্ব ছিল বন্দি জিয়াকে মুক্ত করা এবং তাকে ৩৩৬ নম্বর এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় নিয়ে আসা। সেখানে তাহের ও আমি (ইনু) জিয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু আমাদের এ পরিকল্পনা সফল হয়নি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মামলা করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরেই শেখ মুজিব রাষ্ট্রপতির শপথ নেন। তিনি বাংলাদেশের অবৈধ রাষ্ট্রপতি।

তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, শেখ মুজিব ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, ২৫ মার্চও দেননি- বরং তাজউদ্দিন আহমেদ তাকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার আহবান জানালে তিনি তাকে নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন কিংবা ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যুত্থান কোন ঘটনাতেই জিয়াউর রহমান ক্ষমতার লোভ দেখাননি। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান পরিণত হন জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রতীকে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার শুধু  অবৈধই নয়, কুইক রেন্টালের ভর্তুকির নামে শেখ হাসিনা জনগণের ৩৪ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। অথচ বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারে নিমজ্জিত বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, এই দূর্নীতিবাজ সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকি মুখে।  এ অবস্থায় দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় খালেদা জিয়ার আহবানে দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিকের আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ার আহবান জানান তারেক রহমান।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন- তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা এডভোকেট আসাদুজ্জামান, যুক্তরাজ্য যুবদলের আহবায়ক দেওয়ান মোকাদ্দেম চৌধুরী নেওয়াজ, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক নাসির আহমেদ শাহীন, যুক্তরাজ্য জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, যুক্তরাজ্য জাতীয়তাবাদী তরুণ দলের যুগ্ম আহবায়ক শরফরাজ শরফুসহ অনেকেই। খবর ঃ আমাদের প্রতিদিন