ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:২৭ ঢাকা, বুধবার  ২৩শে মে ২০১৮ ইং

মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে ছিটমহলগুলোতে নবদিগন্ত সূচনা

বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)’র গর্ভনর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ঐতিহাসিক মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে অধুনাবিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে উন্নয়ন সম্ভাবনার এক নবদিগন্ত সূচনা করেছে। তিনি দেশের মানচিত্রে সদ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়া বলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের জাতীয় অর্থনীতির মূল ধারায় সংযুক্ত এবং তাদের সম্ভাবনাময় উদ্যোগসমূহ বিকশিত করার লক্ষ্যে নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্যাংকসহার্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকারগন আগের চেয়ে এখন আনেক বেশি মানবিক। সামাজিকভাবে অধিকতর দায়বদ্ধ হওয়ার ফলে কৃষি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমসহ নানাবিধ কর্মকান্ডে ব্যাংকগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আজ রোববার পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে অধুনাবিলুপ্ত দহলা খাগড়াবাড়ি ছিটমহলে আয়োজিত ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সিএসআরএস কার্যক্রমে অধুনালুপ্ত ছিটমহলবাসীর জীবনমান উন্নয়নে অংগ্রহণমূলক’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআরএস কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশর সাথে একীভূত হওয়া বিলুপ্ত ১১১ টি ছিটমহলে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৩৪ টি নলকূপ, ১৯২ টি স্যানেটারি ল্যাট্রিন, ১০ টি স্প্রে মেশিন,১৯ টি কম্পিউটার, ১৩ শ স্কুল ব্যাগ, ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন নিমার্ণ, ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার শিক্ষা বৃত্তি,একশ স্কুল বেঞ্চ,, স্বকর্মসংস্থানের জন্য ৯০ টি সেলাই মেশিন, ১৮৩ টি বাইসাইকেল, ১১০ টি রিকশা-ভ্যান, সেীর বিদ্যুৎ, ১৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন, ৩০ টি গরু বিতরণ করা হচ্ছে।
ড. আতিউর রহমান বলেন, সুখে-দুখে আপনাদের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর অবস্থা সরেজমিনে দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সফর করে এই নতুন নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে সম্ভাব্য সবকিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সমগ্র ব্যাংকিং পরিবার আপনাদের পাশে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ টেসই প্রবৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্ত অর্থনৈতিক উন্নয়নের আদর্শ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এখন আমরা দ্রুত উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হবার পথে এগিয়ে চলেছি।
তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেন, আজীবন তিনি নয়া সম্ভবনার স্বপ্ন দেখছেন। আর স্বপ্নই হলো একটি চলমান সমাজের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তিনি তার উপলব্ধি বর্ণনা করে বলেন,‘দেশে জন্মালেই দেশ আপন হয় না। যতক্ষণ দেশকে না জানি ততক্ষণ সে দেশ আপনার নয়’। তিনি বলেছেন,‘ আমাদের দেশে সকলের চেয়ে দরকার, হাতে ভিক্ষা তুলিয়া দেওয়া নয়, মনে ভরসা দেওয়া’। আমরা আপনাদেরকে ভরসা দেওয়ার জন্য এসেছি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর শাখার মহাব্যবস্থাপক মো. খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো: মাহফুজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএস তাবরেজ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এহসানুল হক, ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বদিউল আলম, রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুর আহমেদ, সোনালী ব্যাংকের উপ -ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান, বিলুপ্ত ছিটের নেতা আলতাফুর রহমান এবং মখলেছার রহমান।
এর আগে তিনি সেখানে বিভিন্ন ব্যাংকের স্টল পরিদর্শন ও দহলা খগড়াবাড়ী এনবিএল লুৎফর রহমান ও কোটভাজনী উচ্চবিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং দেবীগঞ্জের ভাউলাগঞ্জ ও পাটগ্রামের বুড়িমারী ন্যাশনাল ব্যাংকের পৃথক দু’টি শাখার উদ্বোধন করেন।
সিএসআর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত উপকারভোগীদের মধ্যে সেলাই মেশিন, নলকূপ, সোলার প্যানেল, কৃষি উপকরণ, ছাত্রীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন স্থাপন, স্কুলঘর নির্মাণে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। এ উপলক্ষে সেখানে আয়োজিত ব্যাংক মেলায় দেশের ৩৮টি ব্যাংক তাদের বিভিন্ন ব্যাংকিং সার্ভিস তুলে ধরে ৩৮ টি স্টল স্থাপন করে।