Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:৫৫ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী

মুক্তিযোদ্ধা-ভাস্কর ফেরদৌসী মারা গেছেন

মুক্তিযোদ্ধা-ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী আর নেই। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি …..রাজিউন)।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত এই মুক্তিযোদ্ধার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহি রেখে গেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা-ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে আসে।

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথকভাবে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

ল্যাব এইড হাসপাতালের কর্মকর্তা সাইফুর লেনিন জানিয়েছেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী দীর্ঘদিন যাবৎ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

মরহুমার মেয়ে ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনীর স্বামী ইফতেখার খান আজ মঙ্গলবার বিকেলে জানান, মরহুমার এক ছেলে অস্ট্রেলিয়া থাকেন। আগামিকাল তার দেশের ফেরার কথা রয়েছে। তিনি দেশে ফিরলে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর দাফনের বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

পারিবারিকভাবে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে তার দাফন বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হতে পারে। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ হিমাগারে রাখা হয়েছে। সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ আগামি বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।

ইফতেখার খান জানান, দুই বছর আগে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর বড় মেয়ে মারা গেলে তাকে আজিমপুর কবরাস্থানে দাফন করা হয়। সেখানেই মরহুমাকে দাফন করা হতে পারে।

মরহুমার মেয়ে ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী এবং হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, শারীরীক অসুস্থ্যতা অনুভব করলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তাঁর কিডনিতে সমস্যা হচ্ছিল। এর আগে গত বছর ৪ নভেম্বর নিজের বাসায় বাথরুমে পড়ে গিয়ে তাঁর পায়ে গোড়ালির একটি হাড় স্থানচ্যুত হয়। গত রোববার হাসপাতালে তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। এরপর বেলা পৌনে একটার দিকে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৪৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হন। স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দেয়। এর আগে ২০১০ সালে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক পান। ২০১৪ সালে একুশের বইমেলায় তাঁর আত্মজীবনী ‘নিন্দিত নন্দন’ প্রকাশিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধা-ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান প্রমুখ।

শোকবার্তায় তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর অবদান যেকোন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে কম নয়। তাঁর মত নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন হয়েছি। তার অবদান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। -বাসস