ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৩৮ ঢাকা, সোমবার  ১২ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের পক্ষে ইনু

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, নিরপেক্ষতা বলে কিছু নেই। নিরপেক্ষতার কথা বলে মাঝপথে হাঁটার আর সময় নেই।
তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে। সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয় করে সত্যের পক্ষাবলম্বন করতে হবে।
মন্ত্রী নিজে নিরপেক্ষ নন উল্লেখ করে বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের পক্ষে।
তিনি আজ তিন দিনব্যাপী ‘গ্লোবাল ইয়ূথ এন্টারপ্রেনারস সামিট ২০১৫ বাংলাদেশ’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান সবুর খান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি হোসেন খালেদ ও নেপালের ‘গ্লোবাল খবর ডট কম’ এর সিইও আশীষ ঠাকুর।
স্বাগত বক্তৃতা দেন আয়োজক ধ্রুবতারা ইয়ূথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডিওয়াইডিএফ) নির্বাহী পরিচালক অমিয় প্রাপন চক্রবর্তী।
সামিটে অংশ নেয়া ২৭টি দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও দু’টি পক্ষ ছিল। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। তখন মুষ্টিমেয় ব্যক্তি বাদে আপামর জনতা বাংলাদেশের পক্ষ নিয়েছিল।
তিনি বলেন, সে সময় যারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে মাতৃভূমির বিরুদ্ধাচার, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, মা-বোনদের ধর্ষণ ও হত্যা, বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকান্ড ও লুটপাটের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, শেখ হাসিনার সরকার আর্ন্তজাতিক মানদন্ডে তাদেরই বিচার করছে।
দেশী-বিদেশী তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রত্যেককে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে বেড়ে ওঠার আহবান জানিয়ে ইনু বলেন, ধর্মের বাছ-বিচার না করে নিজেদের মানুষ হিসেব তৈরি করবেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক মহান নেতা ছিলেন উল্লেখ করে ইনু বঙ্গবন্ধুরই এক উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমি প্রথমে মানুষ, তারপর বাঙালী এবং শেষে মুসলিম।’
উদ্যোক্তা হিসেবে জীবন শুরু করা এ তরুণদের তথ্যমন্ত্রী পরামর্শ দেন, জীবনের শুরুতে ব্যর্থতা আসবে, তবে দমে গেলে চলবে না। কৃতকার্য হতে হলে ব্যর্থতা থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব অন্যের হাতে ছেড়ে না দেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ গড়তে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সব সময়ই সামনের দিকে দৃষ্টি রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে কর্ম সম্পাদন করতে হবে।
ইনু বলেন, আপনারা এমন সময় কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন, যখন সারা পৃথিবীকে সন্ত্রাসবাদ ও সাইবার অপরাধ ঘিরে ধরেছে। এ থেকে নিজেকে এবং নিজের রাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে সর্তক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী জেন্ডার বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্রতা, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধেও আপনাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা প্রভৃতি উন্নয়নশীল দেশের তরুণদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নিজের দেশকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানী প্রভৃতি উন্নত দেশের তালিকায় দেখতে চাইলে আপনাদেরকেই সে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। বিশ্বব্যাপী ইন্ডাস্ট্রি ও তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে বিপ্লব ঘটছে, তার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।
ইনু বলেন, বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশের তরুণ প্রজন্মকে তৈরি করছে। বাংলাদেশ যে তার লক্ষ্য অর্জনে সঠিক পথে এগুচ্ছে, তার স্বীকৃতিও ইতোমধ্যে পেয়েছে। জাতিসংঘ ঘোষণা দিয়েছে, বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের কাতারে প্রবেশ করেছে।
তিন দিনব্যাপী এ সামিটে ২৭টি দেশের ১০০ বিদেশী ডেলিগেটসহ দেশীয় প্রায় ৩’শ ডেলিগেট অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হলো-বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল, ভূটান, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম, পেরু, জর্ডান ও অফ্রিকার কয়েকটি দেশ।
সামিটে যে ৮টি প্যানেলের উপর সকলের মনোযোগ থাকবে, সেগুলো হচ্ছে- এন্টারপ্রেনারশীপ, লিডারশীপ, আইসিটি এ্যান্ড ইনোভেশন, হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড গুড গভার্নেন্স, গ্লোবাল ইকোনোমি এ্যান্ড রিনিউবল এনার্জি, এনভায়রমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ, গ্লোবাল সিটিজেটশীপ অ্যান্ড ফিউচার ওয়ার্ল্ড এবং মিডিয়া অ্যান্ড এডুকেশন।
আগামী রোববার সামিটের সমাপনী দিনে শ্রেষ্ঠ ১০ উদ্যোক্তাকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। সমাপনী দিনে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রধান অতিথি থাকবেন।

FOLLOW US: