Press "Enter" to skip to content

মিসরে ‘প্রেসিডেন্ট ফাত্তাহ বিরোধী’ বিক্ষোভ

মিসরীয় একনায়ক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির অপসারণের দাবিতে রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, অনলাইনে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

সিসির শাসনাধীন ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের কারণে মিসরে এ রকম বিক্ষোভের ঘটনা একেবারেই বিরল বলা চলে।

শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালের এই বিক্ষোভে লোকজন এসে আরব বসন্তের কেন্দ্রস্থল তাহরির স্কয়ারে জড়ো হন। ২০১১ সালে এখান থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদে দেশটির সেই সময়ের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতন ঘটেছিল।

এছাড়াও বিভিন্ন শহরে রাতের নীরবতা ভেঙে রাস্তায় নেমে পড়েন সিসির নিপীড়নে ক্ষুব্ধ লোকজন।

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মধ্যপ্রাচ্যনীতিবিষয়ক কেন্দ্রের গবেষক খালিদ এলজিনদি বলেন, সামাজিকমাধ্যমে বিক্ষোভের ছবি দেখে মিসরীয় পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে তিনি অস্বস্তিবোধ করছেন।

তিনি বলেন, কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হচ্ছে, ছোট্ট আকারে হলেও। এমন একটি সরকারের শাসনামালে এই বিক্ষোভ হচ্ছে, যখন ভিন্নমতের প্রতি শূন্যসহনীয় নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে।

‘আমরা জানি, সামাজিকমাধ্যমের লোকজনের একটা প্রবণতা আছে, নিজেদের সামনে তুলে ধরার। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে- মিসরের বিভিন্ন স্থানে স্বল্পসংখ্যক লোকজন বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, মিসরীয় সরকার কতটা নিপীড়ক, এ বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে সেটি বোঝা যাচ্ছে,’ বললেন এই বিশ্লেষক।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্যের পরিচালক সারাহ লিহ উইটসন বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে লোকজন নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন। এটি মিসরের ভয়াবহ পরিস্থিতিকেই তুলে ধরছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, দেশজুড়ে কয়েক হাজার লোক বিক্ষোভ করছেন। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের প্রতি সম্মান দেখাতে মিসরীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

শনিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক উপপরিচালক মাইকেল পেজ জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমন করতে প্রেসিডেন্ট আল-সিসির নিরাপত্তা বাহিনীগুলো ফের নৃশংস উপায় বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের উচিত এসব স্বীকার করে নেয়া। অতীতের নৃশংসতা যাতে ফের না ঘটে, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।

এমন একসময় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন মিসরীয় প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

টুইটারে গণতন্ত্রপন্থী তৎপরতাকারী আইয়াদ আল-বাগদাদী বলেন, হেই, ডোনাল্ড ট্রাম্প, আপনার প্রিয় একনায়ক এখন নিউইয়র্কের পথে। তাকে সেখানেই রাখেন। তিনি ফিরে আসুক, মিসরীয়রা সেটি চান না।

শুক্রবারের বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অনেক সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারী তাদের প্রফাইলে পুরাদস্তুর লাল ছবি আপলোড করেছেন।

মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে অভ্যত্থানের মাধ্যমে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন তখনকার সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

এরপর সব ধরনের বিরোধীদের প্রতি তিনি দমনাভিযান চালিয়েছেন। ষাট হাজার ভিন্নমতাবলম্বীকে তিনি কারাগারে ঢুকিয়েছেন। অনেকের বিচার চলছে।

গত ১৭ জুন বিচার চলাকালে আদালত কক্ষে আকস্মিক পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন মোহাম্মদ মুরসি। তার মৃত্যুকে সম্পূর্ণ হত্যাকাণ্ড বলে আখ্যায়িত করেছে মুসলিম ব্রাদারহুড।

মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, কারাগারে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

সংগঠনটিকে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হিসেবে কালোতালিকাভুক্ত করেছেন আল-সিসি। ২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী শত শত বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছেন তিনি।

শেয়ার অপশন: