শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:২৩ ঢাকা, রবিবার  ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

মিরপুরে কারখানায় আগুনে অন্তত ১৩ জন নিহত

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে নাসিম প্লাজার পাশে অ্যাপকো বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লেগে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আগুনে বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে রবিউল, তৌহিদুল ইসলাম (৪৫), কামাল হোসেনকে (৪০) উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে প্রথমে তিন জনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ও বাকি চারজনের লাশ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। অপর একজনের লাশ রাখা হয় পঙ্গু হাসপাতালে। রাতে এগুলো সহ মোট ১৩টি লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এর বাইরে একটি খন্ডিত পা উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল কারখানার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লাগায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সূত্র জানায়, গতকাল সন্ধ্যা ৫টা ৩৫ মিনিটে মিরপুর-১ নম্বরের সনি সিনেমা হলের পেছনে ২১/২ চিড়িয়াখানা সড়কের অ্যাপকো বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি প্লাস্টিক কারখানার নিচতলায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। এতে মুহূর্তেই ওই কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে কারখানার নিচতলা ও দ্বিতীয় তলা থেকে অন্তত ১৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে প্রথমে যে ৪ জনের লাশ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়, তাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ। আর ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে সন্ধ্যায় পাঠানো তিন লাশের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ। পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়ায় বাকিদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না।
আগুন লাগা ওই ভবনের আহত নিরাপত্তাকর্মী তৌহিদুল ও কামাল জানান, হঠাৎ কারখানার নিচতলায় বিকট শব্দ হয়। এতে পুরো ভবনে আগুন ধরে যায়। ভেতর থেকে বের হতে গিয়ে তারা অগ্নিদগ্ধ হন। রবিউল নামে আহত আরেক কর্মী জানান, তিনি ভবনের নিচতলায় কাজ করছিলেন। নিচতলাতেই হঠাৎ বিকট শব্দে কিছু একটার বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই চারদিকে আগুন ধরে যায়। দৌড়ে বের হয়ে আসতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, চারতলা ভবনের নিচতলায় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন ছড়িয়ে পুরো চারতলায় ছড়িয়ে পড়ে। কারখানায় প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল ও দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর আমরা ভেতর থেকে প্রথমে ৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আলী আহমেদ খান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, এই অগ্নিকা- তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ভবনটি নির্মাণধীন। চারতলা ভবনের ছাদে টিন দিয়ে আরেক তলা বানানো হয়েছে। ভবনের নিচতলায় কারখানা এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় অফিস ও গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ছাদের টিনশেডও ব্যবহার করা হতো গুদাম হিসেবে। জাহিদ হাসান নামে ভবনের অপর এক সিকিউরিটি গার্ড জানান, বিকালে সাভার থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে প্লাস্টিকের কাঁচামাল আনা হয়। কাভার্ডভ্যানটি সদর দরজার সামনে রেখে শ্রমিকরা মালামাল নামাচ্ছিলেন। এসময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কাভার্ড ভ্যানেও আগুন লেগে যায়। এতে কারখানার ভেতর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। কারখানায় কর্মরত রবিউল জানান, তারা সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টার শিফটে কাজ করছিলেন। এ সময় ৭০ থেকে ৮০ জন পুরুষ ও ১৪ জন নারীকর্মী কাজ করছিলেন। কারাখানাটিতে ‘ওয়ান টাইম ইউজ’-এর জন্য প্লাস্টিকের গ্লাস-প্লেট তৈরি করা হতো। এর মালিকের নাম আনিসুজ্জামান খান। এদিকে আগুনের ঘটনার পর স্থানীয় এমপি আসলামুল হক ও সংরক্ষিত আসনের এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন ও ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ঘটনাস্থলে যান। আসলামুল হক বলেন, আগুনে নিহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমরা ৮ জনের লাশ পেয়েছি।