Press "Enter" to skip to content

‘মিন্নিকে নিয়ে দেয়া এসপির বক্তব্য দাখিলে নির্দেশ’

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে পুলিশ লাইনে নেয়া, আসামি করা এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পূর্বে পুলিশ সুপারের প্রেস-কনফারেন্স করে তার দোষ স্বীকারের বিষয়ে বক্তব্য রাখা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছে হাইকোর্ট।

এসব তথ্য যুক্ত করে মঙ্গলবার হাইকোর্টে সম্পূরুক আবেদন দাখিল করতে মিন্নির আইনজীবীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার জামিন আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, সম্পূরুক আবেদন দাখিল করুন। কাল (মঙ্গলবার) বেলা ২ টায় শুনানি হবে। জামিন আবেদনের শুনানিতে মিন্নির আইনজীবী জেডআই খান পান্না বলেন, মিন্নি ১৯ বছরের একটি মেয়ে। সে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ ১১ টি ক্লিপে বিভক্ত করে পুলিশ দাবি করছে মিন্নি এতে জড়িত।

তিনি বলেন, ডিআইজি মিজানকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আর মিন্নিকে ৫ দিনের রিমান্ডে পুলিশ লাইনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিন্নি আদালতে বলেছে তাকে পুরুষ পুলিশ কর্তৃক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করেছে। ইতোমধ্যে ওই জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন তিনি।

আদালত বলেন, রিমান্ডে নেওয়ার আগেই কি তাকে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়েছে? আইনজীবী বলেন, প্রথমে তাকে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়। পরে রিমান্ডে নেয়া হয়। যা সংবিধান পরিপন্থী।

আদালত বলেন, পত্রিকায় এসেছে মিন্নিকে প্রথমে পুলিশ লাইনে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওইদিন রাতেই তাকে আসামি করা হয়েছে। পরদিন রিমান্ডে নেয়া এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পূর্বেই বরগুনার পুলিশ সুপার প্রেস-কনফারেন্স করে বলেছে মিন্নি দোষ স্বীকার করেছে। এগুলো কি জামিন আবেদনে উল্লেখ করেছেন।

আইনজীবী বলেন, আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তখন আদালত বলেন, আবেদনের কোথাও তো তা দেখতে পাচ্ছি না। এরপরই হাইকোর্ট এসব তথ্য যুক্ত করে সম্পূরুক আবেদন দাখিলের জন্য মিন্নির আইনজীবীকে নির্দেশ দেয়।

গত ৮ আগস্ট হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ মিন্নিকে জামিন দেয়নি। এ অবস্থায় তার আইনজীবী আবেদনটি ফেরত দেওয়ার আবেদন জানালে হাইকোর্ট তা মঞ্জুর করে। এরপর রোববার হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে জামিন আবেদনটি শুনানির জন্য পেশ করা হয়।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গত জুলাই মাসে ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালত মিন্নির জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে তিনি জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।

শেয়ার অপশন: