শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:০২ ঢাকা, রবিবার  ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ফাইল ফটো

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পন্থা উদ্ভাবন করতে হবে : আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর পন্থা উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

‘দেশের আদালতসমূহে বর্তমানে বিচারাধীন মামলা রয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ ৯৬ হাজার উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে এত বিপুল সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। এ বিশাল মামলা-জট নিরসনে বিকল্প পদ্ধতিতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর পন্থা উদ্ভাবন করতে হবে।’

আইনমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)’র আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক। দিনব্যাপী এ কর্মশালায় ৭০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

আনিসুল হক বলেন, মামলা-জট নিরসনের জন্য ‘আমাদের প্রথমে সঠিকভাবে মামলা ব্যবস্থাপনা করতে হবে, প্রচলিত মামলা ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন আনতে হবে।’

তিনি বলেন, দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে বিচারপূর্ব শুনানি ও প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করা হলে, দেওয়ানি মামলা দ্রুততম সময়ে বিকল্প পদ্ধতিতে কিংবা সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পথ সহজ হবে।

আইনমন্ত্রী বিচারকদের আইনের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ এবং আইনজীবীগণকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আনিসুল হক বলেন, বিকল্প পদ্ধতিতে মামলা নিস্পত্তির জন্য দক্ষ, বলিষ্ঠ ও কর্মনিষ্ঠ মিডিয়েটর শ্রেণী তৈরি করাও অপরিহার্য। এক্ষেত্রে প্রতিটি জেলার জেলা জজগণকে দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী মিডিয়েটরদের তালিকা হালনাগাদ করতে হবে।

তিনি বলেন, জাপানে মিডিয়েটরদের নিয়োগ ও নবায়নের বিষয়ে যে ধরণের নীতিমালা অনুসরণ করা হয় ‘আমাদেরও একই ধরণের নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে’।

তালিকাভূক্ত মিডিয়েটর এবং বিচারকগণকে এ বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন,জাপানের আর্থিক ও কারিগরী সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন কারণে বর্তমানে দেওয়ানি ও ফৌজদারী উভয় প্রকৃতির মামলা দায়েরের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ হার বিকল্প উপায়ে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন করে এতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু বিকল্প পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা পর্যালোচনায় স্পষ্টত দেখা যায় যে, আইনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা এখনো আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করতে পারিনি। এ পদ্ধতিকে কার্যকর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে জাপানের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় আমরা প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করতে চাই। আমরা আশা করি, জাপান এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ, জাপানের চুকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কাজুতো ইনাবা, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিপ্রিজেন্টেটিভ হিরোইকি ইতো, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার শাহা ও উম্মে কুলসুম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।