Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৪৭ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্রকুমার সিনহা

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ প্রধান বিচারপতির

দেশের সব আদালতে অনিস্পন্ন পুরনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেয়ার পর এ বিষয়ে কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন।
সুপ্রিমকোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম জানান, প্রধান বিচারপতি দেশের আদালতসমূহে মামলা জট কমানো, দ্রুত বিচার কাজ শেষ করা, আদালতের সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিতে বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করেছেন। সারাদেশের অধস্তন আদালতসমূহে বিচারধীন মামলার আধিক্য হ্রাস, মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার, দ্রুত বিচার নিস্পত্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন আদালতে কর্মরত সকল পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের রেজিষ্ট্রারকে জানানো ছাড়া সংশ্লিষ্টদের কর্মস্থল ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সম্প্রতি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জাতীয় সম্মেলনে এবং দেশের বিভিন্ন আদালতে সফর করে অনিস্পন্ন পুরনো মামলা দ্রুত নিস্পত্তির জন্য বিচারকদের তাগিদ দিয়েছেন।
এদিকে বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম দূর করতে সুপ্রিমকোর্টে স্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ বাক্স। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের সামনে এ অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়। এ বাক্সে বিচারপ্রার্থী জনগণ, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা লিখিতভাবে নিজস্ব মতামত, পরামর্শ, অভিযোগ প্রকাশ করতে পারছেন।
সূত্র জানায়, সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে এবং দেশের অধস্তন আদালতে ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে মামলা নিস্পত্তির হার অনেক বেড়েছে। ২০১৪ সালে আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হয় পাঁচ হাজার ৯১১টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে নিষ্পত্তি হয় ২২ হাজার ৪৪৭টি। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে আট হাজার ৫২৯টি ও হাইকোর্ট বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৩ হাজার ৬৯০টি মামলা। ২০১৫ সালের পুরো হিসাব এখনো জানা যায়নি। নিম্ন আদালতেও মামলা নিষ্পত্তির হার আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের জেলা, দায়রা, বিভিন্ন ট্রাইব্যুনাল ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা ১৪ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। ২০১৪ বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে প্রায় ১২ লাখ মামলা।
সূত্র জানায়, অধস্তন আদালতে মামলা দ্রুত নিস্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির জারি করা বিভিন্ন সার্কুলার ইতিবাচক ফল আনছে। অহেতুক অজুহাতে মামলা মূলতবি রোধ, সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হলে তা অব্যাহত রাখা, যৌক্তিক কারণ ছাড়া সময় মঞ্জুর না করার কারণে মামলা নিস্পত্তির হার আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
সুপ্রিমকোর্ট সূত্র জানায়, বিচারাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘প্রধান বিচারপতি পুরস্কার’ চালু করতে যাচ্ছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা, আইনের উন্নয়ন ও সংরক্ষণকারী সংস্থা, উচ্চ ও নিম্ন আদালতের কর্মকর্তাদের অবদানকে আরো গতিশীল করতে এ পুরস্কার প্রথা চালু হচ্ছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে ‘প্রধান বিচারপতি পুরস্কার’ নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে। বিচারাঙ্গনে বিচারকসহ বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের অবদানের মূল্যায়ন, উচ্চ আদালত এবং নিম্ন আদালতের বিচারকদের মামলা নিষ্পত্তির গতি, দক্ষতা, যোগ্যতা, মেধা, সততা বিষয়ে মূল্যায়ন করতে এবং এসব ক্ষেত্রে উৎসাহ আরো বাড়াতে এ পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকা গতবছর ১ নভেম্বর থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে প্রদর্শন করা হচ্ছে। উচ্চ আদালতে গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিস্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য ও নিউজ আপডেট এখন সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে অনলাইনে দেয়া হচ্ছে।
সুপ্রিমকোর্টের সিস্টেম এনালিস্ট কর্মকর্তা, ওয়েবসাইট ও আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিচার ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনতে ইতোমধ্যে চালু করা বিভিন্ন সেবার কারণে অগ্রগতি এসেছে। বিচারকদের স্মার্টট্যাব প্রদান এবং ঢাকা কোর্টের জন্য নতুন মোবাইল অ্যাপস ও চট্রগ্রাম কোর্টে ডিজিটাল সেবার উদ্বোধন করা হয়েছে। ভয়েস রেকর্ডের মাধ্যমে সাক্ষ্য নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিচারকদের দেয়া হবে ভয়েস রেকর্ডের এমন যন্ত্র। প্রতিটি আদালতে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে সংযোগ চালুর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাগণের ডাটাবেস তৈরি করা হচ্ছে। আদালতসমুহে মামলার তথ্যাদি ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রর্দশনের ব্যবস্থা করায় মামলা সংক্রান্ত তথ্যাদি সংগ্রহ এখন অনেক সহজতর হয়েছে। ফলে সময় ও অর্থেরও অনেক সাশ্রয় হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।
সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার বিচার ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনতে ২০০৯ সাল থেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দায়িত্ব নেয়ার পর বিচার ব্যবস্থাকে আরো গতিশীল করা, বিচার প্রার্থীদের হয়রানি লাঘব এবং বিচার বিভাগে ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী বলেন, বর্তমান সরকার সকল ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন করছে। তার অংশ হিসেবে প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে বিচার বিভাগে নানা গতিশীল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে করে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘব হচ্ছে। বাসস