Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৪২ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

নেলসন মান্দেলা

‘মান্দেলাকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার এজেন্ট’

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট এবং বর্ণবাদ-বিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন মান্দেলা ১৯৬২ সালে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর ২৭ বছর কারাবন্দী ছিলেন – এ কথা এখন প্রায় সবারই জানা। কিন্তু তার ধরিয়ে দেবার পেছনে যে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা  সিআইএ’র ভুমিকা ছিল – এ কথা এতদিন পরে স্বীকার করেছেন সিআইএ-রই একজন সাবেক এজেন্ট।

এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করে সাবেক আমেরিকান স্পাই ডোনাল্ড রিকার্ড বলেছেন, মান্দেলা কোথায় আছেন সেই খবর পুলিশকে জানিয়ে দিয়ে তিনিই ধরিয়ে দিয়েছিলেন নেলসন মান্দেলাকে – যিনি পরবর্তী কালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।

মি. রিকার্ড ২০১৩ সালে মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে তার দেয়া স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক টাইমস।

নেলসন মান্দেলাকে ১৯৬২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহর থেকে গ্রেফতার করা হয় – কিন্তু ঠিক কি অবস্থায় তিনি ধরা পড়েছিলেন তা আজও রহস্যে ঢাকা। জানা যায়, সে সময় মি. মান্দেলা একজন ছদ্মবেশী ‘শোফার’ বা গাড়িচালকের কাজ করতেন।

জানা যায়, রাতের বেলা ডারবানের কাছে এক রাস্তায় মি. মান্দেলার গাড়ির গতিরোধ করে তাকে আটক করে পৃলিশ।

মি. রিকার্ড সে সময় ডারবানে মার্কিন কনসুলেটে চাকরি করতেন। কিন্তু কূটনীতিকের চাকরির আড়ালে তিনি আসলে ছিলেন সিআইএ’র একজন এজেন্ট। ১৯৭৮ সালে তিনি অবসর নেন।

তিনি মারা যাবার আগে স্বীকারোক্তিমূলক এক সাক্ষাতকারে একজন চলচ্চিত্র পরিচালককে বলেন, তিনিই ডারবানের পুলিশকে সেই রাতে মান্দেলার গতিবিধির খবরটি জানিয়েছিলেন।তার মৃত্যুর তিন বছর পর সাক্ষাতকারটির বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে।

এরপর এএনসির গোপন সশস্ত্র তৎপরতায় ভুমিকার জন্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে বিচার হয় মান্দেলার, পরের প্রায় ২৮ বছরে মান্দেলা পৃথিবীর সবচেয়ে বিধ্যাত কারাবন্দীতে পরিণত হন।

তখন নেলসন মান্দেলাকে একজন ‘সন্ত্রাসী’, ‘সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরের সবচেয়ে বিপজ্জনক কমিউনিস্ট’ এবং ‘পশ্চিমের প্রতি হুমকি’ বলে মনে করা হতো।

মি. মান্দেলা অবশ্য সব সময়ই বলেছেন যে তিনি কখনো কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন না।

মি. রিকার্ড একসময় মান্দেলার গ্রেফতারের পেছনে সিআইএর ভুমিকার কথা ‘অসত্য’ বলে উড়িয়ে দিলেও পরে তিনি মত পরিবর্তন করে ব্যাপারটা স্বীকার করে নেন।

মি রিকার্ডের এই স্বীকারোক্তি প্রকাশের পর এখন সিআইএ’র ওপর চাপ বেড়েছে। বলা হচ্ছে, নেলসন মান্দেলার গ্রেফতার এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সরকারের সমর্থনে সিআইএর ভুমিকার কি ছিল – তা প্রকাশ করতে হবে।

সিআইএ এর আগে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করার চেষ্টায় বাধা দিয়েছে।

মি. রিকার্ডের সাক্ষাৎকার সম্বলিত চলচ্চিত্রটি এখন ফ্রান্সের কান উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে। বিবিসি

 

http://www.bbc.com/bengali/news/2016/05/160515_cia_agent_admits_tipoff_in_1962_mandela_arrest