Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:৪৩ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘মানুষের সেবা করা আওয়ামী লীগের মূল টার্গেট’- প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের উন্নয়ন ও মানুষের সেবা করে যাচ্ছে। মানুষের সেবা করার জন্যই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। আমাদের মূল টার্গেট হল মানুষের সেবা করা। আওয়ামী লীগের এ সেবা অব্যাহত থাকবে।বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে আওয়ামী লীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনির্ধারিত আলোচনায় একথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ যেভাবে দেশকে সুরক্ষিত করেছে, একইভাবে জনগণের সহযোগিতায় দলটি বাংলাদেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ৬৭ বছরের যে ইতিহাস— একদিকে যেমন সংগ্রামের ইতিহাস, আত্মত্যাগের ইতিহাস এবং একটি দেশকে স্বাধীন করা ও একটি স্বাধীন দেশকে একটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইতিহাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে এগোতে হয়েছে। বারবার আঘাত এসেছে। শহীদের তালিকাও যদি দেখি, তাহলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ প্রতিটি আন্দোলনে জীবন দিয়ে গেছে। সকল ক্রান্তিলগ্নে আওয়ামী লীগ অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করেছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সবসময় আওয়ামী লীগেকে সুসংগঠিত করে রেখেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে দেশী ও বিদেশী ষড়যন্ত্র ছিল। দেশের গ্যাস আমরা চুক্তি করে বিদেশীদের দেয়নি এটাই ছিল আমাদের সমস্যা। নির্বাচনে আমরা ভোট বেশি পেয়েও এ কারণে ক্ষমতায় আসতে পারেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে ‘৭১ সালের মতো মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষকে তারা হত্যা করেছে। তাদের এই মানুষ হত্যার পরিপ্রেক্ষিতেই পরবর্তীতে দেশে ওয়ান-ইলেভেনের  সৃষ্টি হয়।

দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সব ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ যেমন দেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে, সুরক্ষিত করেছে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পেছনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, সেভাবে এগিয়ে নিয়ে জাতির পিতার সোনার বাংলা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার যে স্বপ্ন ছিলে এই বাংলাদেশ নিয়ে। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলতে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নত করব। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটা উন্নত দেশ।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদবিরোধী যে কার্যক্রম নিয়েছি, তার ফলে বাংলাদেশে আজকে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। এখানে দেশবাসীর সহযোগিতা চাই। কারণ কিছু তো থাকেই সবসময় একটা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে এই অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দল কোনো দেশে চার-চারটি সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেনি। আওয়ামী লীগ একমাত্র দল এই দেশে চারটি সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগের যে ক্ষতি সামরিক সরকাররা করেছে। বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা, নেতা-কর্মীদের হত্যা। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পর প্রতি পদক্ষেপে তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র ছিল, এখনও আছে।

বঙ্গবন্ধু যেমন নিজের জীবন উপেক্ষা করে এ দেশেকে স্বাধীন করেছে। তেমনি তার সুযোগ্য কন্যা ষড়যন্ত্র পদদলিত করে বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন কায়েম করার জন্য কাজ করছেন বলেও মন্তব্য করেন আমির হোসেন আমু।