Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:০১ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ফাইল ফটো

‘মানুষের মনে ঈদ আনন্দ নেই’

মানুষের মনে ঈদ আনন্দ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

দেশের সকল মানুষকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই হাসি-খুশি। অথচ এ বছর মানুষের মনে ঈদ আনন্দ নেই, উৎসবমুখর পরিবেশ নেই। তারা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে এই দিনটি পালন করছে। কারণ দেশের মধ্যে বৈষম্য বাড়ছে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ ১০ বছরে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে- মন্তব্য করে বিএনপি নেত্রী বলেন, দেশ ও মানুষ বাঁচাতে ক্ষমতা ছেড়ে সহায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলে বিএনপির বলার কিছুই খাকবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তাই দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। আর সেজন্য প্রয়োজন একটি সহায়ক সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। যে নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে।

সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারবে বলে মনে করেন খালেদা জিয়া।

তবে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনেরও দাবি জানিয়েছেন বিএনপি প্রধান।

তিনি বলেন, একটি শ্রেণী বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল লুটপাট আর দুর্নীতির মাধ্যমে বড়লোক হচ্ছে। গরীব লোক গরীব থেকে আরও গরীব হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নেই। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। মানুষের হাতে এখন টাকা নেই।

টাকা সব আওয়ামী লীগের লোকদের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আজকে সারাদেশে রাস্তাঘাটের দুরাবস্থা। সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। হাওর অঞ্চল এবং পাহাড়ধসের দিকে এই সরকারের নজর নেই। অথচ কথায় কথায় বলে দেশে উন্নয়ন হচ্ছে। সবাই ব্যস্ত টাকা লুটপাট ও দুর্নীতিতে।

গুম, খুন, হত্যা প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে- মন্তব্য করে চলতি অর্থবছরের বাজেটেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিক, বিশিষ্টজনসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর এবং ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকার কবর জিয়ারত করে মোনাজাত করেন তিনি।