ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:৩৮ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া

মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে নিরলস প্রচেষ্টা ছিল : প্রধানমন্ত্রী – দেশ বধ্যভূমিতে পরিণত: খালেদা

 

মানবধিকার দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বানী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণায় সন্নিবেশিত সারাবিশ্বের সকল মানুষের মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশের অবিচল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আজ এক বাণীতে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি মেনে চলবে।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বিগত সাত বছরে মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের ভিশন-২০২১ এবং ভিশন-২০৪১ অর্জনে আমরা দারিদ্র্য, ক্ষুধারোগ এবং নিরক্ষরতা দুরীকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সকল প্রকার সহিংসতামোকাবেলায় সর্বোচ্চ গুরুত্বদেয়া এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ নির্মাণ করতে চাই, যেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সত্যিকার অর্থে নিরাপদ থাকবে। তিনি বলেন, আমাদের সরকার স্বাধীনতার রক্ষক এবং আমাদের গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ পূর্ণ বাক স্বাধীনতা ভোগ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের সমর্থনে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, একই চেতনায় আমরা বিশ্বের যেখানেই যে কেউ বসবাস করুক না কেন, তাদের শান্তি, ন্যায় বিচার, স্বাধীনতা ও মানবাধিকার অব্যাহত সমর্থনে এই মানবাধিকার দিবসে আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া

 

মানবধিকার দিবস উপলক্ষে খালেদা জিয়ার বাণী

‘একতরফা’ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বুধবার জাতিসংঘ ঘোষিত ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবধিকার দিবস উপলক্ষে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ একদলীয় স্বেচ্ছাচারী শাসন এবং গোষ্ঠী, বর্ণ ও জাতিগত সংঘাতে অবলীলায় খুন ও গুপ্ত হত্যার শিকার হচ্ছে এবং অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের সার্বজনীন ঘোষণায় বলা হয়েছে-বিশ্বের সব জাতির সকল মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কিন্তু দেশে দেশে নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী শাসকরা জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার নির্দেশনাগুলোকে তাচ্ছিল্য করে নিজ দেশের জনগণের ওপর চালিয়ে যাচ্ছে বর্বরোচিত আক্রমণ।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বাংলাদেশে এখন ভয়াবহ দুঃসময় চলছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের পূর্বাপর বাংলাদেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীন জোট সীমাহীন রক্তপাত ও বেপরোয়া নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করে নিয়েছে।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার মানবাধিকারের পরিপূরক। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার শূন্যের নিচে অবস্থান করছে।’
তিনি বলেন, ‘এদেশে কেবল বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাই নয়, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক এবং নারী-শিশুসহ কারোই কোনো নিরাপত্তা নাই। এদের অধিকাংশই গুম, গুপ্তহত্যা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন।’
খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও দল নিরেপক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, টকশো আলোচকদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং কাউকে কাউকে কারান্তরীণও করে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই নৈরাজ্যকর দুঃশাসনের ছোবল থেকে মুক্তি পেতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান অপশাসনের অবসান ঘটাতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’