Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:২৯ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

“মানবাধিকার ফিরিয়ে আনতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্দোলন চলবে”

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনগণের মানবাধিকার ফিরিয়ে আনতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই ঘোষনা দেন।
রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সেমিনার কক্ষে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বিএনপি ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান প্রমূখ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন।
নেতাকর্মীদের সঙ্গে গুম হয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যরা আলোচনা সভার অতিথি আসনে বসেছিলেন।
অনুষ্ঠানে গুম হওয়া পরিবারের এক শিশু কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলে, শেখ হাসিনা আন্টি, আমার পাপাকে (বাবা) ছেড়ে দিন। প্লিজ আন্টি।
মির্জা ফখরুল বলেন. আজ দেশে মানবাধিকার ভুলণ্ঠিত। সারা দেশে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী যারা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্যে লড়াই করছেন, তাদের অনেকেই নিখোঁজ হয়ে গেছেন। তাদের অনেকেই আজকে বিচারবর্হিভুত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, এই অবস্থায় আমাদেরকে অত্যন্ত সচেতনভাবে গণতন্ত্রের যে নীতি তা তুলে ধরে আন্দোলন করেই যেতে হবে। দেশের মানুষ কখনো হার স্বীকার করতে জানে না।
দলের নিখোঁজ হওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী, ডিসিসি‘র কাউন্সিলর চৌধুরী আলম, সাবেক সাংসদ হুমায়ুন কবির হীরুসহ অসংখ্য নেতাকর্মী গুম হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এরকম অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ হয়ে গেছেন। তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই রাষ্ট্রে শান্তি ফিরে পাওয়া খুব কঠিন।
মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে বিশ্ব সংস্থার কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয়, এই যে জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব মানবাধিকার দিবস- এগুলো বোধ হয় ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। একদিকে তারা মানবাধিকারের কথা বলবেন, আরেকদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না।
স্বজনদের ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকুল আবেদন জানান তাদের পরিবারের সদস্যরা। বংশাল থানা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হোসেনের শিশু কন্যা হৃদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলে, শেখ হাসিনা আন্টি, আমার পাপাকে (বাবা) ছেড়ে দিন। প্লিজ আন্টি। আমি আপনার জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করি। আপনি খুব ভালো। আমি আমার পাপ্পুর সঙ্গে বেড়াতে যেতে চাই, স্কুলে যেতে চাই।
বংশাল থানা ছাত্রদলের আরেক নেতা মো. চঞ্চলের ছোট ছেলে আবদুল আহাদ বলেন, শেখ হাসিনা আন্টি, আমি অনেকদিন পাপ্পাকে দেখি না। স্কুলে যেতে পারি না। প্লিজ পাপাকে ছেড়ে দিন।