ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৩৬ ঢাকা, সোমবার  ২০শে আগস্ট ২০১৮ ইং

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খোকনের ফাঁসির আদেশ

 বিএনপি নেতা পলাতক এমএ জাহিদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে আনা ১১অভিযোগের মধ্যে ১০টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৬ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও বাকি ৪টি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে ৪০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টায় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় দেন।  ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। এর আগে বেলা ১১টায় রায় পড়া শুরু করেন তিন সদস্যের টাইব্যুনাল।
১৭ এপ্রিল এ মামলার বিচার কার্যক্রম শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি-কেস অ্যাওয়েটিং ভারডিক্ট) রাখেন।
২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট জাহিদকে পলাতক ঘোষণা করে তার অনুপস্থিতিতেই মামলার কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পলাতক থাকায় তার পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আবদুস শুকুর খানকে নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে তাকে ১০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়ে দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। তবে তিনি হাজির হননি।
গত বছরের ৯ অক্টোবর জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১১টি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।
অভিযোগ গঠনের আদেশে বলা হয়, জাহিদ হোসেন ওরফে খোকন রাজাকার একাত্তরের ২১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত নগরকান্দায় পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগী হিসেবে হত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তরিত করা, দেশান্তরে বাধ্য করা, অগ্নিসংযোগ প্রভৃতি মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
একাত্তরে ১৬ জন নারী-শিশুসহ ৫০ জন নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ঘরে আগুন দিয়ে তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা, দুজনকে ধর্ষণ, ১৭ জনকে আটক রেখে নির্যাতন, নয়জনকে ধর্মান্তরে বাধ্য করা, ১০টি গ্রামের দুটি মন্দিরসহ অসংখ্য বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, সন্তানসহ সাতজনকে দেশত্যাগে বাধ্য করা প্রভৃতি অভিযোগ আনা হয়।
২১ নভেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন ২৪ জন। আসামিপক্ষে কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেননি রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। ১৭ এপ্রিল জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলায় চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবদুস শুকুর খান।  এর আগে যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ ।
এটি পলাতক আসামি হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের তৃতীয় মামলার রায়। প্রথমটি হল জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য (রুকন) আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মামলা। ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে পুলিশ তার বাড়িতে যাওয়ার আগেই তিনি পালিয়ে যান। তাকে পলাতক ঘোষণা করে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার হয়, গত বছরের ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। অপর মামলায় পলাতক দুই আলবদর নেতা চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানকে বুদ্ধিজীবীদের পরিকল্পিতভাবে নিধনের দায়ে গত বছরের ৩ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। এ দুজন মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই বিদেশে পালিয়ে যান।

এই প্রতিবেদন Like & Share করুন।