ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:০০ ঢাকা, শনিবার  ১৮ই আগস্ট ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

মানবতাবিরোধী অপরাধীরা যেন রাষ্ট্রপতির ক্ষমার সুযোগ নিতে না পারে তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে : আইনমন্ত্রী

শীর্ষ মিডিয়া ১৯ অক্টোবর ঃ    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ভবিষ্যতে কোন মানবতাবিরোধী অপরাধী রাষ্ট্রপতির ক্ষমার সুযোগ নিয়ে যেন পার পেয়ে না যায় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।
তিনি আজ রাজধানীর বিয়াম অডিটরিয়ামে জুডিশিয়াল এ্যাডমিনেস্ট্রেশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট ফান্ড আয়োজিত ‘জুডিসিয়াল মেডিয়েশন স্কিল ট্রেনিং ফর এ্যাকটিভ জাজেস’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে যদি কোন রাষ্ট্রপতি ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ক্ষমা করেন। তবে আমার ব্যক্তিগত মত এ ব্যাপারে একটা পদক্ষেপ নেয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কোন মানবতাবিরোধী অপরাধী সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৯-এর দোহাই দিয়ে পার পেয়ে না যায়।’
তিনি বলেন, ‘এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশের কোন রাষ্ট্রপতি একজন মানবতাবিরোধী অপরাধীকে ক্ষমা করে দেবেন আর আমরা তা দেখে যাব, এটা সম্ভব নয়। তবে বাস্তব প্রেক্ষিত এদেশে নিজামী ও মুজাহিদের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধীও মন্ত্রী হয়েছেন। তাদের গাড়িতেও দেশের পতাকা তুলে দেয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত কিভাবে এবং এটাকে কোন আইনে আনতে হবে। যাতে তা সংবিধান বিরোধী না হয়, বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে আমরা এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দল বা সংস্থার বিচারের বিষয়ে সংশোধিত ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ্যাক্ট’ এর খসড়া অনুমোদনের জন্য ২৭ অক্টোবরের পরের অর্থাৎ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিপরিষদ সভায় ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আনিসুল হক বলেন, দেশে দেওয়ানী ও ফৌজদারী মিলিয়ে প্রায় ২৭ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিধিমালা প্রয়োগ করার মাধ্যমে মামলার জট কমিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, মামলার জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিধিমালা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই এই বিধিমালা অনুমোদন দেয়া হবে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিধিমালা প্রয়োগের মাধ্যমে বিচারকরা আদালতের বাইরেও মামলা নিষ্পত্তির এখতিয়ার পাবেন। এতে দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার যে জট রয়েছে তা অনেকাংশে কমে আসবে।
মন্ত্রী বলেন, আদালতের বাইরে মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা আদালতের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার সরাসরি বিকল্প নয়। তবে এই ব্যবস্থা মামলার ব্যয়, অহেতুক কালক্ষেপণ এবং আইনী জটিলতাকে কমিয়ে বিচার ব্যবস্থার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থার আগেও দেশে তৃণমূল পর্যায়ে পঞ্চায়েতরা বিরোধ নিষ্পত্তি করতেন উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, ‘সরকার যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানসম্মত বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দিচ্ছে।’
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষ ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করে। বিচার বিভাগ ও আইনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা একে অপরের সাথে সহযোগীতার মাধ্যমে জনগনকে ন্যায় বিচার দিতে সক্ষম হবে।
আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব আবু আহমেদ জমাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক বক্তৃতা করেন।