ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:৫৮ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

মাদক বিরোধী অভিযান চলবে : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে মাদক দ্রব্য পুরোপুরী নিয়ন্ত্রনে না আসা পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।

তিনি বলেন, ‘দেশের তরুন সমাজকে রক্ষা করার জন্য এই অভিযান চলছে। কারণ তরুণরা ধ্বংস হয়ে গেলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

কাদের বলেন, এ অভিযান সর্বাত্মক রূপ নিয়েছে। আর এ অভিযানে দেশের জনগণও খুশি। তিনি আজ দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সেলেব্রেটি হলে মেট্রোরেল প্রকল্পের ৭ম প্যাকেজের কাজের চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমান সরকারের চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলেই বিএনপির নেতাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। আর সেজন্যই তারা এ অভিযান নিয়ে আবোল তাবোল বকছে।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি দেশের মানুষের কাছে ধরা পড়ে গেছে। আর তাই বিএনপি তার জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলে ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। গত নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার খেসারত তারা দিচ্ছে। বিএনপির নেতাদের সৃষ্ট হতাশা থেকে তারা সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানের সমালোচনা করছে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের।

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরাম নিহত হওয়ার বিষয়ে সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। একরামের নিহত হওয়ার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে একরাম নির্দোষ প্রমান হলে অভিযানের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জেও কেউ রেহাই পায় নি। এ ঘটনাতেও কেই রেহাই পাবেন না।

দেশে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলেই দেশের মন্ত্রী-এমপিরা আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।

মাদক বিরোধী অভিযানের পর খাদ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালানোরও ইংগিত দেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ইলেকট্রিক্যাল এন্ড মেকানিক্যাল সিস্টেম সরবরাহ ও নির্মাণ কাজের সর্বশেষ ধাপের এ চুক্তি ঢাকা ম্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানী (এমআরটি) এবং ভারতের লারসেন এন্ড তব্রু (এল এন্ড টি) লিমিটেড এবং জাপানের মারুবেনীর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এমআরটি এর পক্ষে প্রকল্প পরিচালক আফতাব উদ্দিন তালুকদার এবং ভারতের রাজীব জয়তী লারসেন ও তব্রু এবং মারবেনীর পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এ উপলক্ষে প্রকল্প পরিচালক আফতাব উদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি, ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম, জাইকা ঢাকা অফিসের প্রতিনিধি কাকাতোশি নিশিকাতা ও ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানী লিমিটেডে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ সিদ্দিক।

সিডি এবং ভ্যাট ও আইটসহ মোট চুক্তিমূল্য চার হাজার নয়শ’ ত্রিশ কোটি তের লক্ষ ছয় হাজার আটশ’ টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এ প্যাকেজের আওতায় রেলওয়ে ট্র্যাক নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন ও ট্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন নির্মাণ, সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপন, টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম স্থাপন, স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায় পদ্ধতি স্থাপন, প্লাটফর্ম স্ক্রীন ডোর এবং স্টেশন ও ডিপো এলাকায় লিফট ও এসক্যালেটর স্থাপন করা।

পরে সড়ক পরিহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাজধানীর এলেনবাড়ীর বিআরটিএ ভবনে পরিবহন নেতা ও মালিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগদান করেন।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আসন্ন ঈদ-উল ফিতরে মানুষের যাতে কোন ভোগান্তী না হয় সেজন্য রাজধানীসহ সারাদেশে মহাসড়কে খুড়াখুড়ির কাজ আজ থেকে বন্ধ করার নির্দেশ দেন। রাজধানীতে ওয়াসা, ডেসা, টেলিফোন ও মেট্রোরেল প্রকল্পসহ সকল ধরনের খোড়া-খুড়ির কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, মহাসড়কে খোড়া-খুড়ির কাজ বন্ধ থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ চলবে। আগামী ৮ জুনের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেতুমন্ত্রী কাদের আগামী ৮ জুনের পর থেকে ঈদের পরের ৭ দিন পর্যন্ত সড়ক ও মহাসড়কে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

আনফিট গাড়ী রাস্তায় না নামানো, উল্টোপথে গাড়ী না চালানো এবং বিকল গাড়ী সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেকার রাখার জন্যও তিনি নির্দেশ দান করেন।

এ সময় বিশিষ্ট লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান ও পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।