ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:২৮ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

নমুনা চিত্র

‘মাছ কাটলে রক্ত বেরোচ্ছে কিন্তু তাজা নয়’

হোক না অনেক দিন আগেকার ধরা মাছ। কিন্তু দেখলে মনে হবে এই যেন তুলে আনা হয়েছে পুকুর থেকে। মাছ কাটলে বেরোচ্ছে রক্তও। ক্রেতারা পটাপট কিনেও নিচ্ছেন সেই ‘সতেজ’ মাছ।

আগেকার ধরা মাছ এমন সতেজ থাকছে কিভাবে? এর পেছনে রয়েছে একটি রাসায়নিকের কারসাজি। নাম তার ফর্মালিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি ফর্মালিন শরীরে ঢুকলে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপকে তা প্রভাবিত করতে পারে। দেখা দিতে পারে মারাত্মক সমস্ত রোগভোগও। আর এ বার তাই বিপজ্জনক মাত্রার ফর্মালিনযুক্ত মাছ বিক্রি বন্ধ করতে উদ্যোগী হতে চলেছে কলকাতা পৌরসভা।

পৌর প্রশাসন এবার থেকে নিয়মিতভাবে শহরের বিভিন্ন বাজারে ফর্মালিন দেয়া মাছ ধরতে নজরদারি চালাবে কিভাবে?

পৌরসভার খাদ্য-সুরক্ষা অফিসারদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি টিম। ওই টিম নির্দিষ্ট যন্ত্র (কিট) নিয়ে হানা দেবে বাজারে। সন্দেহ হলেই মাছের শরীরে কতটা ফর্মালিন রয়েছে তা পরিমাপ করবেন তারা।

ইতিমধ্যেই পৌরসভার স্বাস্থ্য দফতর এ নিয়ে বৈঠক করেছে। যেখানে খাদ্য সুরক্ষার বিশেষজ্ঞেরাও ছিলেন। তাদেরই এক জন জানিয়েছেন, কোনো দ্রবণে ৩৭ শতাংশ ফর্মালিন থাকলে তা মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে।

স্বাস্থ্য দফতরের উপদেষ্টা তপন মুখোপাধ্যায় জানান, ছাত্রাবস্থায় ল্যাবরেটরিতে অনেকেই ফর্মালিনের ব্যবহার করেন। সেখানে ব্যাঙ বা অন্য কোনো জীব কাটার পরে ফর্মালিন দিয়ে তা সতেজ রাখা হয়।

তিনি বলেন, ‘একই ভাবে মাছ ব্যবসায়ীরাও মাছ ফর্মালিনে চুবিয়ে রাখেন। তাতে মাছ সতেজ থাকে বটে, কিন্তু মানুষের পাকস্থলী, যকৃৎ, ক্ষুদ্রান্ত্রে নানাবিধ ক্ষতি করে ওই ফর্মালিন। এমনকি এর থেকে ক্যান্সারও হতে পারে।’

কিভাবে ফর্মালিন ব্যবহৃত হয় মাছে?
স্বাস্থ্য দফতর জানায়, মাছ ধরার পরে তা আনা হয় আড়তে। সেখান থেকে মাছ কিনে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। বেশ কয়েক দিন ধরে সেই মাছ বাজারে মজুত রাখেন তারা। সতেজ রাখার জন্য তা চুবিয়ে রাখা হয় ফর্মালিনে।

পৌরসভার এক রসায়নবিদ বলেন, যারা মাছে ফর্মালিন ব্যবহার করছেন, তারা জানেন না কতটা পরিমাণ দিলে তা মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপদ। মাছ সতেজ রাখতে তারা খুশি মতো ব্যবহার করছেন ওই রাসায়নিক। আর ভয়টা সেখানেই।

মেয়র পরিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ জানান, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো শহরজুড়ে মাছের বাজারে ঘুরবেন পৌরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অফিসারেরা। অতিরিক্ত ফর্মালিন ধরা পড়লে প্রথম বার ওই সব ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেবে পৌরসভা। তাতে কাজ না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মেয়র পারিষদ বলেন, মঙ্গলবার শহরে ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে পৌরসভা।

সূত্র: আনন্দ বাজার পত্রিকা।