ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:২৯ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘মহাসড়ক নেটওয়ার্ক বর্তমানে পূর্বের তুলনায় উন্নততর’- প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আজ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্যে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মহাসড়ক নেটওয়ার্ক বর্তমানে পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় উন্নততর। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, মায়ানমার, ভুটান ও নেপালের সাথে মহাসড়কপথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ নিম্নোক্ত আন্তঃদেশীয়, আঞ্চলিক এবং উপ-আঞ্চলিক মহাসড়ক নেটওয়ার্ক উদ্যোগসমূহের সাথে সম্পৃক্ত।

এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক, সাউথ এশিয়া সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কোঅপারেশন (এসএএসইসি) করিডোর, বাংলাদেশ চীন ইন্ডিয়া মায়ানমার ইকোনমিক করিডোর (বিসিআইএমইসি), সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশন (এসএএআরসি) করিডোর, বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল এ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিআইএমএসটিইসি) করিডোর, বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া এ্যান্ড নেপাল (বিবিআইএন) মোটর ভেহিকলস এগ্রিমেন্ট (এমভিএ)।

তিনি বলেন, ভারতের মেঘালয় প্রদেশের সাথে এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক-এর সংযোগ রয়েছে। নেটওয়ার্কটি এএইচ-১ নামে পরিচিত। নেটওয়ার্কটি বাংলাদেশের সিলেট জেলার তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয় প্রদেশের জৈন্তা হিলস জেলার ডাউকি সীমান্তে সংযুক্ত হয়েছে। এ করিডোরটি ব্যবহার করে ভারতে নাগাল্যান্ড, মরিপুর, আসাম ও মেঘালয় এ যাওয়া যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের আসাম প্রদেশের সাথে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মায়ানমার (বিসিআইএম) করিডোর রয়েছে। করিডোরটি বাংলাদেশের সিলেট জেলার শেওলা সীমান্ত দিয়ে ভারতের আসাম প্রদেশের করিমগঞ্জ জেলার সুতারকান্দি সীমান্তে সংযুক্ত হয়েছে। এ করিডোর ব্যবহার করে ভারতের কোলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে পুনরায় ভারতের আসাম, মনিপুর হয়ে মায়ানমার এর মধ্যদিয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত যাওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম প্রদেশের সাথে সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশন (এসএএআরসি) এর ৩টি করিডোর রয়েছে। করিডোরসমূহ এসএএআরসি হাইওয়ে করিডোর-১, এসএএআরসি হাইওয়ে করিডোর-৫ এবং এসএএআরসি হাইওয়ে করিডোর-৬ নামে পরিচিত।

তিনি বলেন, এসএএআরসি হাইওয়ে করিডোর-১ ব্যবহার করে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় যাওয়া যাবে। এসএএআরসি হাইওয়ে করিডোর-৫ ব্যবহার করে বাংলাদেশের সিলেট জেলার তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ের রাজধানী শিলং এবং একই রুটে আসামের রাজধানী গৌহাটি হয়ে ভুটানের অভ্যন্তরে সামদ্রুপ ঝংকার পর্যন্ত যাওয়া যাবে। এসএএআরসি হাইওয়ে করিডোর-৬ ব্যবহার করে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলা হতে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় যাওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয় ও আসাম প্রদেশের সাথে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টোরাল টেকনিক্যাল এ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিআইএমএসটিইসি) এর ৩টি করিডোর রয়েছে। করিডোরসমূহ বিআইএমএসটিইসি রোড করিডোর-১, বিআইএমএসটিইসি রোড করিডোর-৩ এবং বিআইএমএসটিইসি রোড করিডোর-৪ নামে পরিচিত। উল্লেখ্য যে, বিআইএমএসটিইসি রোড করিডোর-১ এবং এসএএআরসি হাইওয়ে করিডোর-১ এর রুট একই। অনুরূপভাবে বিআইএমএসটিইসি রোড করিডোর-৩ এবং এসএএআরসি হাইওয়ে করিডোর-৫ এর রুট একই। তাছাড়া বিআইএমএসটিইসি রোড করিডোর-৪ এবং এসএএআরসি হাইওয়ে করিডোর-৬ এর রুটও একই। কাজেই বিআইএমএসটিইসি এর ৩টি করিডোর ব্যবহার করেও এসএএআরসি হাইওয়ে করিডোর এর ন্যায় ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয় ও আসামে যাওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া এ্যান্ড নেপাল (বিবিআইএন) মোটর ভেহিকলস এগ্রিমেন্ট (এমভিএ) গত ১৫ জুন ২০১৫ তারিখে স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ভুটান ব্যতিত সকল সদস্য রাষ্ট্র চুক্তিটি অনুসমর্থন করেছে। ভুটানের অনুসমর্থন এবং সকল সদস্য রাষ্ট্র কর্তৃক প্রটোকল স্বাক্ষরের পর ঢাকা হতে মেঘালয়ের রাজধানী শিলং এবং আসামের রাজধানী গৌহাটি হয়ে ভুটানের সামদ্রুপ ঝংকার পর্যন্ত এবং ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা পর্যন্ত পণ্যবাহী যান চলাচল শুরু হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের মেঘালয় ও আসাম প্রদেশের মহাসড়ক যোগাযোগ স্থাপনের অংশ হিসেবে ঢাকা-সিলেট-শিলং-গৌহাটি রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল ২০১৫ সালের ৬ জুন থেকে শুরু হয়েছে। একইদিন কোলকাতা-ঢাকা-আগরতলা রুটেও যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু হয়। এছাড়াও একই তারিখ ভারতের ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের সরাসরি মহাসড়ক যোগাযোগ স্থাপনের নিমিত্ত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার সীমান্ত নদী ফেনীর উপর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণের ভিত্তিফলক উন্মোচন করা হয়।

তিনি বলেন, ঢাকায় আমি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে বাস রুট সার্ভিসদ্বয় উদ্বোধন এবং সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম। ভারতে মিজোরাম প্রদেশের দেমাগিরির সাথে বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার থেগামুখ সীমান্ত দিয়ে মহাসড়ক যোগযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে রুট সমীক্ষার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এছাড়া নৌ-পরিবহন ও রেল পথ খাতেও ব্যাপক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।