Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:৫৯ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বাণী

মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রবীন্দ্রচেতনার আলোকে সাম্য ও শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিনি বলেছেন, রবীন্দ্রনাথের বিশালতা এবং তাঁর সৃষ্টির অপূর্ব মাধুর্যকে অন্তরাত্মা দিয়ে উপলব্ধি করতে হলে রবীন্দ্রচর্চার বিকল্প নেই।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, জগৎ-সংসারকে গভীরভাবে জানতে তরুণ প্রজন্ম রবীন্দ্র সাহিত্যে অবগাহন করবে ও রবীন্দ্রচর্চায় ব্যাপৃত থাকবে।
রবীন্দ্রচেতনার আলোকে সাম্য ও শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা পাবে। মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।’

মো.আবদুল হামিদ বিশ্বকবি বরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মবার্ষিকীর প্রাক্কালে আজ এক বাণীতে এসব কথা বলেন।

তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবির অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের একজন দিকপাল, উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর সাহিত্য সম্ভার যেমন বিশাল তেমনি বর্ণাঢ্য।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বরীন্দ্রনাথের কালজয়ী লেখায় একদিকে ঋদ্ধ হয়েছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, অন্যদিকে তা বিশ্বসাহিত্যের অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছে আপন বৈভব, আঙ্গিক, বহুমাত্রিকতা আর সার্বজনীনতায়। কবির মানসপটে ছিল শিল্পের পরিশীলিত আবহ, প্রকৃতি, প্রেম, আধ্যাত্মিকতা এবং তাতে সম্মিলন ঘটে বিশ্বসভ্যতা, দর্শন ও বিজ্ঞান।

আবদুল হামিদ বলেন, রবীন্দ্রনাথ পারিপার্শ্বিক সবকিছুকে আত্মস্থ করেছেন গভীর উপলব্ধিতে এবং এর সার্থক বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তাঁর কালোত্তীর্ণ সাহিত্যকর্মে। তিনি (কবিগুরু) একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
রাষ্ট্রপতি বলেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল তাঁর কালের কবি নন, তিনি কালজয়ী। তিনি বাংলা সাহিত্যকে পূর্ণতা দিয়েছেন; দিয়েছেন বিশ্বসমাজে উচ্চ প্রতিষ্ঠা ও মর্যাদা। শিল্প-সাহিত্যে তাঁর বিপুল অবদান আমাদের সাংস্কৃতিক সত্তার এক অপরিহার্য অংশ।

আবদুল হামিদ বাণীতে উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথের অন্তর্নিহিত জীবনবোধ ছিল স্থির। বহু পরিবর্তনকে স্বীকার করে নিয়েও আপন আদর্শে তিনি ছিলেন অবিচল। অন্যদিকে তাঁর সৃজনশীল রূপটি ছিল চলিষ্ণু ও পরিবর্তনশীল। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনন্ত জীবন, চিরজীবী মানবাত্মা ও প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্যের কবি। মৃত্যুকে তিনি দেখেছেন মহাজীবনের যতি হিসেবে। জীবন-মৃত্যু ও জগৎ-সংসার তাঁর নিকট প্রতিভাত হয় এক অখ- রূপে। তাই তাঁর গানে জীবনলীলার সুর বাজে এভাবে: ‘আছে দুঃখ আছে মৃত্যু বিরহ-দহন লাগে, তবুও শান্তি তবু আনন্দ তবু অনন্ত জাগে’।

রাষ্ট্রপতি ১৫৫তম রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বব্যাপী দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও বৈষম্যের বিলোপ সাধন এবং ধর্ম-বর্ণ-ভাষার বৈচিত্র্য সমুন্নত রাখতে রবীন্দ্রনাথের জীবন ও দর্শন এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের মননে বিশ্বকবির ব্যঞ্জনাময় উপস্থিতি শোষণ, বঞ্চনা, সাম্প্রদায়িকতা, সহিংসতা ও অমানবিকতা প্রতিরোধে বাঙালির অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বকবি বরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ এক বাণীতে এ কথা বলেন। আগামীকাল তার জন্মদিন। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তিনি বাণীতে বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ও বাঙালির শৈল্পিক অহঙ্কারের এক বিশ্বব্যাপ্ত নাম। তিনি নিজের সমৃদ্ধ সাহিত্য চর্চার পরিধি দিয়ে বিস্তৃত করেছেন গোটা বাংলা সাহিত্যের পরিসর। তিনি বিশ্বসাহিত্যের উজ্জ¦লতম নক্ষত্র। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কালজয়ী এ কবি জীবন ও জগৎকে দেখেছেন অত্যন্ত গভীরভাবে যা তাঁর কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, গীতিনাট্য, প্রবন্ধ ও ভ্রমণ কাহিনী, সঙ্গীত ও চিত্রকলায় সহস্রধারায় উৎসারিত হয়েছে।

সাহিত্য, সঙ্গীত ও শিল্পমাধ্যমের প্রতিটি শাখায় তাঁর অনায়াস বিচরণ সত্যিই বিস্ময়কর উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ছিলেন শান্তির কবি, মানবতার কবি। তিনি ছিলেন প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যের সাধক। ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে তিনি বাংলা সাহিত্যের বৈশ্বিক অভিযাত্রাকে বেগবান করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ২৪ বছরের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথের লেখনী আমাদেরকে উজ্জীবিত করেছে। তাঁর জাতীয়তাবোধ বাঙালির অনন্ত প্রেরণার উৎস। কবির প্রতি অর্ন্তহীন ভালবাসায় ১৯৬১ সালে বৈরী পাকিস্তানি শাসকচক্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমরা যেমন রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ পালন করেছি, তেমনি ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান হয়ে উঠেছিল মুক্তিকামী বাঙালির সাংস্কৃতিক সহায় সূত্র। জীবনের প্রতিটি সমস্যা-সঙ্কট, আনন্দ-বেদনা এবং আশা-নিরাশার সন্ধিক্ষণে রবীন্দ্রসৃষ্টি আমাদের চেতনাকে স্পর্শ করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন প্রকৃতিলগ্ন ও জীবনমুখী শিক্ষাদর্শনের পথপ্রদর্শক। তাঁর শিক্ষাভাবনা আমাদের বিজ্ঞানভিত্তিক, আধুনিক শিক্ষায় অগ্রগামী হতে অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের তিনি একান্ত আপনজন। শিলাইদহ ও পতিসর অঞ্চলেই তিনি রচনা করেছিলেন ‘ছিন্নপত্র’র সিংহভাগ এবং অসামান্য কিছু গান। এই অঞ্চলের গ্রামীণ দরিদ্র ও অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষের জন্য তাঁর পল্লী উন্নয়ন প্রচেষ্টা আজও আমাদের কাছে অনুসরণীয় হয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কালোত্তীর্ণ এ কবির সৃষ্টিকে প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কবিগুরুর অমর সৃষ্টি ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’ গানটি জাতির পিতা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করেন যা দেশের মানুষের মনে সঞ্চারিত করেছে দেশপ্রেমের নতুন প্রেরণা।

তিনি বলেন, কবিগুরুর ১৫৫তম জন্মবার্ষিকীর সূচনালগ্নে শান্তিময় পৃথিবী গড়াই হোক আমাদের প্রত্যয়। বাসস