ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:৪০ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

আজ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি । মায়ের ভাষার দাবিতে বাঙালির আত্মত্যাগের মহিমান্বিত এক দিন। যেদিন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের বুকের রক্তে ভেসেছিল ঢাকার রাজপথ। যে রক্তের পথ বেয়ে আসে বাঙালির মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। স্বাধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনও এই একুশের পথ ধরে। বাঙালির আত্মগৌরবের স্মারক অমর একুশে উপলক্ষে আজ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে সেই ভাষা শহীদদের। ফুলে ফুলে শোভিত হবে প্রাণের মিনার। শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে শহীদ বেদিতে। মুখে মুখে উচ্চারিত হবে, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’ বাঙালির ভাষা সংগ্রামের অমর কীর্তিগাথা আজ সারা দুনিয়ার অহংকার। সারা বিশ্বজুড়ে পালিত হবে এ দিবসটি।
মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২-এ জীবন দিয়েছিল সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, শফিউল্লাহসহ নাম না জানা অনেকে। তাদের রক্তের বিনিময়েই আজকে মুখে মুখে বাংলা ভাষা। বাংলায় রচিত হচ্ছে হাজারো গান, কবিতা, নাটক, উপন্যাস আর অজস্র কথামালা। আজকের দিনটি শুধু সেসব বীর ভাষাসৈনিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য যারা ভাষার জন্য অকাতরে নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন। আজকের দিনটি কেবল বাংলাদেশে নয়। বিশ্বের সব প্রান্তে পালিত হবে বীরের রক্তস্রোত আর মায়ের অশ্রুভেজা অমর একুশে। বাঙালির রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ্বে একযোগে পালিত হয়ে আসছে দিনটি।
৬৩ বছর আগের এই দিনে বাংলার সংগ্রামী ছেলেরা যে ত্যাগ ও গৌরবগাথা রচনা করেছিলেন, তারই পথ ধরে আমরা মুখোমুখি হই স্বাধীনতা সংগ্রামে। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। লাভ করি লাল সবুজের পতাকা। মহান ভাষা দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। এদিকে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হবে। মধ্যরাতে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। এরপর একে একে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টাবৃন্দ, প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ, ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ও বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, তিন বাহিনীর প্রধানরা শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শহীদ মিনার। নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত হয় স্মৃতির মিনার। একুশের প্রথম প্রহরে সারা দেশে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় ভাষা শহীদদের প্রতি।
১৯৫২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনরত বাঙালি রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে হরতালের প্রস্তুতি চলতে থাকে। সরকার ২০শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় একটানা এক মাসের জন্য ঢাকা জেলার সর্বত্র হরতাল, সভা, মিছিলের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে। এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছাত্ররা দলে দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমায়েত হয়। ঐতিহাসিক আমতলায় ছাত্রদের সভা থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরিকল্পনা করা হয়, চারজন চারজন করে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার। ছাত্ররা মিছিল শুরু করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাকে তুলতে থাকে। বিকাল ৩টায় গণপরিষদের অধিবেশনের আগেই শুরু হয়ে যায় ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ। বিকাল ৪টায় পুলিশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সামনে ছাত্রদের ওপর গুলি চালায়। বুলেট কেড়ে নেয় জব্বার ও রফিকের প্রাণ। গুলিবিদ্ধ আবুল বরকত রাত পৌনে আটটায় হাসপাতালে মারা যান। তাদের মৃত্যু সংবাদে বাংলা ভাষার প্রাণের দাবি সারা দেশে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে। শাসকগোষ্ঠী বাংলা ভাষার দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। এরপর থেকেই একুশে ফেব্রুয়ারি অমর ভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। শহীদদের স্মরণে সারা দেশে তৈরি হয় অসংখ্য শহীদ মিনার।