ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:৩১ ঢাকা, সোমবার  ১৬ই জুলাই ২০১৮ ইং

মসজিদ উড়িয়ে দেয়া
মসজিদটি উড়িয়ে দেয়ার জন্য আইএসকে দায়ী করছে ইরাকি বাহিনী

মসজিদ উড়িয়ে দেয়া নিয়ে আইএস-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি দোষারোপ

ইরাকি বাহিনীর দাবি কথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস ইরাকের মসুলের বিখ্যাত গ্রেট মসজিদ আল নূরি উড়িয়ে দিয়েছে।

তবে এ দাবিকে অস্বীকার করে মসজিদটি ধ্বংসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ি করেছে আইএস যারা এই মসজিদকে তাদের কথিত ‘খেলাফতে’র প্রধান কেন্দ্র হিসেবে দাবি করতো।

ইরাকের সরকারি বাহিনী মসজিদ উড়িয়ে দেয়ার তথ্য দেয়ার পাশাপাশি মসজিদ গ্রাউন্ডের একটি ছবিও প্রকাশ করেছে যেখানে মসজিদ যেখানে ছিলো সেই স্থানটিকে একটি ধ্বংসস্তূপের মতো মনে হচ্ছে।

দ্যা গ্রেট মস্ক অফ আল নূরি- হিসেবে পরিচিত এই বিখ্যাত মসজিদটি একটি প্রাচীন স্থাপনা যেটি তার বিশেষ ধরনের মিনারের জন্য ব্যাপক বিখ্যাত ছিলো।

২০১৪ সালে এখানেই কথিত ‘খেলাফতে’র ঘোষণা দিয়েছিলো আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদি।

তবে আইএস তার নিজস্ব বার্তা সংস্থা হিসেবে পরিচিত আমাকের মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে মসজিদটি ধ্বংসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমানকে দায়ী করেছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি বলেছেন ওই মসজিদটি উড়িয়ে দেয়ার ঘটনা আইএসের আনুষ্ঠানিক পরাজয়ের ঘোষণা।

উপর থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে মসজিদ ও এর মিনারগুলোর বড় অংশই ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইরাকি একজন কমান্ডার বলছেন ইরাকি সেনারা মসজিদটির ৫০মিটারের মধ্যে পৌঁছানোর পরে আইএস মসজিদটি ধ্বংস করে আরও একটি ঐতিহাসিক অপরাধ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনিয়র সেনা কমান্ডার বলছেন আইএস মসুল ও ইরাকের বিখ্যাত একটি স্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছে।

সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জোসেফ মার্টিন বলেন, “এটি মসুল ও ইরাকের জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ। এটি একটি উদাহরণ যে কেন এই নিষ্ঠুর সংগঠনটির সমূলে বিনাশ দরকার”।

প্রসঙ্গত এর আগেও আইএস ইরাক ও সিরিয়ায় বিভিন্ন স্থানে অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস করেছিলো।

কি জানা যাচ্ছে আল নূরি মসজিদ সম্পর্কে?

এটি মসুলের সবচেয়ে বিখ্যাত সুন্নি মসজিদ। এর নামকরণ করা হয়েছিলো মুসলিম তেনা নূর আল দিন মাহমুদ জাঙ্গির নামে।

তিনি ক্রিশ্চিয়ান ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দিয়ে বিখ্যাত হয়েছিলেন।

এখানেই একবার প্রকাশ্যে এসেছিলেন আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদি।

এর কদিন আগেই ইরাক ও সিরিয়ায় ‘খেলাফত’ ঘোষণা করেছিলো আইএস।

এই মসজিদ হারানোর পর ধারণা করা হচ্ছে মসুল থেকে পুরো নিয়ন্ত্রণই হারাতে যাচ্ছে আইএস।-বিবিসি