ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:৪৯ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মন্দা বাজারেও জেড’ গ্রুপের শেয়ার চাঙা !

পুঁজিবাজারে আবার মন্দাভাব। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দুই পুঁজিবাজারে সূচকের যে অবনতি হয় তারই ধারাবাহিকতা ছিল গতকাল নতুন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে। দীর্ঘ দিন টানা মন্দায় কাটিয়ে গত সপ্তাহে দুই বাজার হারানো সূচকের কিছুটা ফিরে পেলেও আবার মন্দায় আক্রান্ত হচ্ছে পুঁজিবাজার। সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের অবনতিও শুরু হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ৩১.৪৭ পয়েন্ট হারায় গতকাল। ডিএসইর অন্য দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচক কমেছে যথাক্রমে ২১.৩১ ও ৯.৫৬ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে .২২ ও ৪৮.৫৪ পয়েন্ট।এ দিকে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর দরপতনের ফলে যেখানে সূচকের অবনতি ঘটছে সেখানে বিপরীত চিত্র দেখা গে৭১ছে দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানি নিয়ে গড়া ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির ক্ষেত্রে। গতকাল পুঁজিবাজারে দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানি নিয়ে গড়া ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো। ডিএসইতে ‘জেড’ ক্যাটাগরির লেনদেন হওয়া ২৯টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২৬টির। তিনটি কোম্পানির দরপতন ঘটে। একটি ছিল সিমেন্ট খাতের বহু জাতিক কোম্পানি লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। কোম্পানিটি দীর্ঘ দিনের পুঞ্জিভূত লোকসান কাটিয়ে এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণা করে শিগগিরই ক্যাটাগরি পরিবর্তনের পথে রয়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির কমপক্ষে দশটি কোম্পানি গতকাল লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে উঠে যায়। বাকিগুলোর মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে। মন্দা বাজারে দুর্বল কোম্পানিগুলোর এ ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নতুন না হলেও সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেয়া পদক্ষেপে এ প্রবণতা কিছুটা হ্রাস পায়। গতকাল এ প্রবণতা আবার নতুন করে শুরু হলো। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অতীতেও মন্দা বাজারে এ ধরনের প্রবণতা ছিল। ‘জেড’ ক্যাটাগরির বেশির ভাগ কোম্পানিই কম মূলধনী হওয়ায় সহজেই মূল্যবৃদ্ধি ঘটানো সম্ভব হয়। আর এ সুযোগ নেন বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ। বাজারে নানা গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের এসব শেয়ারে বিনিয়োগে উদ্বুুদ্ধ করেন। ফলে কোনো কারণ ছাড়াই মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে থাকে এসব শেয়ারের। গতকাল সকালে দুই পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরু হয় সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায়। ঢাকায় প্রথম ১৫ মিনিট সূচকের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও পৌনে ১১টার দিকে বিক্রয়চাপ শুরু হয়। শুরু হয় নেতিবাচক প্রবণতা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সূচক আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। দিনের বাকি সময় এ চাপ অব্যাহত থাকে। ঢাকা শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকটি ৪ হাজার ৯৬১ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করলেও দিনশেষে স্থির হয় ৪ হাজার ৯৩০ পয়েন্টে। সূচকের অবনতির পাশাপাশি কমেছে ডিএসইর লেনদেনও। গত বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ এ পুঁজিবাজারটিতে ৫১৩ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হলেও গতকাল তা নেমে আসে ৩৮৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে পুঁজিবাজারটিতে লেনদেন কমেছে ১৩০ কোটি টাকা। তবে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজার আগের দিনের লেনদেন ধরে রাখে। একমাত্র নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য খাত গতকাল দরপতনের শিকার হয়। সবচেয়ে বেশি পতনের কবলে পড়ে জ্বালানি, বীমা ও রসায়ন খাত। ব্যাংক, মিউচুয়াল ফান্ড ও টেক্সটাইল খাতের আচরণ ছিল মিশ্র। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ২৯৯টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১৩৫টির মূল্যবৃদ্ধি ঘটলেও দর হারায় ১৩২টি। ৩২টির দর ছিল অপরিবর্তিত। পক্ষান্তরে, চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২২৩টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৮৮টির দাম বাড়ে, ১০৩টির কমে এবং ৩২টির দর অপরিবর্তিত থাকে। ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় ৩৬ লাখ ৫১ হাজার শেয়ার লেনদেন করে গতকাল ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। ২১ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার বেচাকেনা করে নতুন তালিকাভুক্ত হামিদ ফেব্রিক্স ছিল দিনের দ্বিতীয় কোম্পানি। ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট, এবি ব্যাংক, কেয়া কসমেটিকস, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, ফ্যামিলিটেক্স ও যমুনা অয়েল।