ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:২২ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মন্ত্রী মিত্রকে গ্রেপ্তারে চটেছেন মমতা

সারদাকাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের পরিবহনমন্ত্রী মদন মিত্র গ্রেপ্তার হয়েছেন শুক্রবার। ঘটনাটি বেশ বিপাকে ফেলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে। এতে তিনি বেজায় চটেছেন কেন্দ্রীয সরকারের প্রতি। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি নেতৃত্বকে আমি পরোয়া করি না। সাহস থাকলে মোদি আমাকে গ্রেপ্তার করুক।’

বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ এনেছেন এই মুখ্যমন্ত্রী।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সারদা চিট ফান্ড কেলেংকারিতে এই প্রথম তৃণমূলের একজন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে দলটির দুই এমপি সৃঞ্জয় বসু ও কুনাল ঘোষকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। এ নিয়ে তৃণমূলের চার নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলো এই কেলেংকারিতে।

পশ্চিম বঙ্গ ও উড়িষ্যার লাখ লাখ ক্ষুদে সঞ্চয়ী এই কেলেংকারিতে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন।

মদন মিত্র মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে অন্যতম। তৃণমূলের একজন প্রতিষ্ঠকালীন সদস্য তিনি। গত সপ্তাহে সিবিআই তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে। এর পরেই চেকআপের জন্য তিনি হাসপাতালে যান।

ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, সারদা এজেন্টদের সঙ্গে এক বৈঠকে সারদা গ্রুপ চেয়ারম্যান সুদীপ্ত সেনের খুব প্রশংসা করেছেন মদন মিত্র। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, বিতর্কিত এই গ্রুপটির কাছ থেকে গাড়ি, জ্বালানি ও চালকের ব্তেন পর্যন্ত নিয়েছেন মিত্র।

তৃণমূল নেতারা বলছেন, কলকাতায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের জনসভার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকবারের প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বহি:প্রকাশ ঘটছে।

সম্প্রতি কলকাতায় এক জনসভায় মমতাকে উদ্দেশ্য করে বিজেপি সভাপতি বলেন, ‘ দিদি, আমি অমিত শাহ কলকাতায় এসেছি তৃণমূলকে নির্মূল করতে।’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘এটা বিজেপির বিপজ্জনক রাজনৈতিক খেলা। এটা অগণতান্ত্রিক, অনৈতিক এবং অসাংবিধানিক।’ এর বিরুদ্ধে পশ্চিম বাংলা ও দিল্লিতে প্রতিবাদ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। তবে মমতার এই প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি প্রধান বলেছেন,‘ সিবিআই তাদের কাজ করছে।’

সারদা কেলেংকারি নিয়ে গত বছর দলের এক বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে গ্রেপ্তার হওয়া মন্ত্রী ও দুই এমপির পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। বলেন, ‘ তারা কী চোর, আমি কী চোর?

গত নভেম্বরে জেলে বসেই এমপি কুনাল ঘোষ মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। এর আগে তিনি আদালতে হুমকি দিয়েছিলেন, সারদা কেলেংকারির প্রকৃত উপকার ভোগীদের গ্রেপ্তার না করা হলে নিজের জীবন তিনি নিজেই শেষ করে দেবেন।