ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:৫৩ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মন্ত্রিসভা বৈঠকে বাসস-পিআইবি আইনের খসড়া অনুমোদন

মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) আইন-২০১৬ খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। জাতীয় সংবাদ সংস্থাটির বিদ্যমান ১৯৭৯ সালের আইন অনুসরণে এটি প্রণীত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভায় নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফকালে বলেন, ১৯৭৯ সালে সামরিক শাসনামলের অধ্যাদেশের ভিত্তিতে বর্তমানে বাসস পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এক আদেশে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালে ৯ এপ্রিল এবং ১৯৮২ সালে ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালে ১০ নভেম্বরের মধ্যে জারিকৃত সকল সামরিক অধ্যাদেশ অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করে।
এই রায়ের অনুসরণে সরকার এসব অধ্যাদেশ পুনঃস্থাপন ও তা বাংলায় রূপান্তরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের বৈঠকে প্রস্তাবিত আইনটি উত্থাপিত হয়। এতে ১৯৭৯ সালের অধ্যাদেশের বড় কোন পরিবর্তন হয়নি এবং এ অধ্যাদেশটি কমবেশী অনুসরণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ৭ ধারা অনুসারে বাসস ১১ সদস্যের একটি পরিচালনার পরিষদের (বোর্ড অব ডাইরেক্টস) মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই বোর্ডে সরকার মনোনীত একজন চেয়ারম্যান ও ১০ জন সদস্য থাকবেন। বোর্ডের মেয়াদকাল হবে ৩ বছর।
চেয়ারম্যান যে কোন সময় বোর্ডের সভা আহ্বান করতে পারবেন। চেয়ারম্যানসহ কমপক্ষে ৭ জন সদস্যের উপস্থিতিতে বৈঠকে কোরাম হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। কোন বিতর্ক দেখা দিলে চেয়ারম্যান কাষ্টিং ভোটের মাধ্যমে তার সমাধান করবেন।
শফিউল আলম বলেন, সরকার কর্তৃক নিয়োজিত একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ করা হবে। তিনি সংবাদ সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দৈনন্দিন কর্মকান্ড পরিচালনা করবেন। এ পদে নিয়োগের যোগ্যতা হচ্ছে সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট আইন-২০১৬’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির আইনি কাঠামো প্রদানের মাধ্যমে এর কর্মকান্ডের উন্নয়ন ও সময়োপযোগী করতে আইনটি প্রণীত হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদের সচিব বলেন,১৯৭৬ সালের ১৮ আগস্ট প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) প্রতিষ্ঠার সময় থেকে প্রতিষ্ঠানটি কেবল একটি প্রস্তাবের (রেজুলেশন) ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। এ জন্য সংস্থাটি পরিচালনায় একটি আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা থেকে আজকের বৈঠকে এই খসড়া পেশ করা হয়।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে সাংবাদিকদের সংজ্ঞার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় রাজধানীতে হবে। তবে সরকার এর শাখা কার্যালয় রাজধানীর বাইরেও স্থাপন করতে পারবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি নিয়ে সরকার ২ বছর মেয়াদে পিআইবির ১৫ সদস্যের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস গঠন করবে।
কর্মরত সাংবাদিক, গণমাধ্যম, উন্নয়ন ও যোগাযোগ এবং মিডিয়া সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে পিআইবির প্রধান দায়িত্ব। পিআইবি বোর্ডের প্রধান হিসেবে চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী হিসেবে সংস্থাটির মহাপরিচালক উভয়ে সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। মহাপরিচালক চেয়ারম্যানের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতি ৩ মাস পর পর সভা আহ্বান করবেন। এক তৃতীয়াংশ বোর্ড সদস্যের উপস্থিতিতে বৈঠকে কোরাম হবে।
সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাবিত সার্ক যুব সনদের খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যাপকতর লক্ষ্য, নীতিগত নির্দেশনা এবং সদস্য দেশগুলোর করণীয় সম্পর্কে সাধারণ আইন সম্বলিত ১০টি অধ্যায় সংযুক্ত হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সার্ক সনদে যুব সমাজকে কর্মতৎপর রাখতে তাদের জন্য যথাযথ পরিবেশ গড়ে তোলা এবং সদস্য দেশগুলোর করণীয় সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। এছাড়া এতে যুব সমাজের লৈঙ্গিক সমতা (জেন্ডার ইক্যুয়েলিটি) নিশ্চিত করা এবং দক্ষতা ও সামর্থ উন্নয়নের বিধান রয়েছে।
বৈঠকে গত বছরে ১৭ থেকে ২০ নভেম্বর কাঠমান্ডুতে এশিয়ায় পরিবেশগতভাবে টেকসই আঞ্চলিক পরিবহন (ইএসটি) ফোরামের নবম আন্তঃসরকার বৈঠকে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রীর অংশগ্রহণ সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
মন্ত্রিবর্গ ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সচিবগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।