ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:৪৩ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত

মন্ত্রিসভা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক একটি বিশেষায়িত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে আইটি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।
এছাড়া মন্ত্রিসভা ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম (এনএসপি) সম্প্রসারণের একটি প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক নিয়মিত সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করে বলেন, মন্ত্রিসভা ‘ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ আইন-২০১৪’-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে। এর আওতায় গাজীপুর হাইটেক পার্কে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ নিয়ে আলোচনা হয় এবং দেশের প্রথম বিশেষায়িত আইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
মোশাররফ হোসেন বলেন, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের আগে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদনসহ এ প্রক্রিয়া মন্ত্রিপরিষদ সম্পন্ন করবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অন্যান্য পদে দেশ-বিদেশের মেধাবী ও দক্ষ ব্যক্তিদের আকর্ষণে আকর্ষণীয় বেতন ও ভাতা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
মোশাররফ হোসেন বলেন, মন্ত্রিসভা এনএসপি সম্প্রসারণের একটি প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের ১৭টি জেলার ১৭টি দরিদ্র উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে এবং পরবর্তী দু’বছর এটি অব্যাহত থাকবে। এ কর্মসূচির আওতায় ৪২ হাজার ৫শ’ যুবক-যুবতিকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং স্বল্প মেয়াদী চাকরি প্রদান করা হবে।
চাকরি পাওয়ার সুবিধার্থে যুবক-যুবতিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১০ সালের মার্চে দেশের ৩টি জেলায় তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও স্বল্পমেয়াদী চাকরি প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়। সে সময় কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও গোপালগঞ্জ জেলার ১৯টি উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
এর আওতায় মোট ৫৬ হাজার ৮০১ জন যুবক-যুবতিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ হাজার ৫৪ জন সরকারি চাকরি পেয়েছে। এনএসপি’র আওতায় যুবক-যুবতিরা প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে এবং স্বল্পমেয়াদী চাকরিকালে ২০০ টাকা করে পান।
এনএসপি’র দ্বিতীয় পর্যায়ের বাস্তবায়ন হয় ২০১১-’১২ অর্থবছরে। এ সময় রংপুর বিভাগের ৬টি জেলার ১৪ হাজার ৪৬৭ জন যুবক-যুবতিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তৃতীয় পর্যায়ে ১৭টি জেলার ১৭টি দরিদ্র উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী দরিদ্র উপজেলাগুলো বাচাই করা হয়েছে।
উপজেলাগুলো হচ্ছে- বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, শরীয়তপুরের গোসাইর হাট, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, ময়মনসিংহের নান্দাইল, পিরোজপুরের কাউখালী, চাঁদপুরের হাইমচর, শেরপুর সদর, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাগুরার মোহাম্মদপুর, রাজবাড়ির গোয়ালন্দ, বাগেরহাটের চিতলমারী, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, বান্দরবানের থানচি, নাটোরের সিংড়া, খুলনার তেরখাদা এবং কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ।