ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:২৩ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তির লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ

সরকারি দুটি সংস্থার মধ্যে দেওয়ানি মামলা পরিহার এবং আলোচনার মাধ্যমে যে কোন বিরোধ নিস্পত্তির লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা আজ আন্তঃমন্ত্রণালয় বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি (এডিআর) কমিটি গঠনের বিধান সম্বলিত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পেশকৃত খসড়া প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুটি মন্ত্রণালয় বা সরকারি সংস্থার মধ্যে বিরোধ নিস্পত্তির লক্ষ্যে সচিব পর্যায়ে ‘আন্তঃমন্ত্রণালয় বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি কমিটি’ এবং একজন সিনিয়র মন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘আপীল কমিটি’ গঠন করা হবে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর পরস্পরের বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দুটি মন্ত্রণালয়ে মধ্যে বিরোধ পরিহার ও আলোচনার মাধ্যমে যে কোন বিরোধ নিস্পত্তির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী সরকারি সংস্থাগুলো বা মন্ত্রণালয়গুলোকে বিরোধ নিস্পত্তির জন্য প্রথমে আন্তঃমন্ত্রণায় কমিটির কাছে যেতে হবে। কমিটি বিরোধ নিস্পত্তি করতে ব্যর্থ হলে তা সিনিয়র মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আপিল কমিটিতে পেশ করা হবে। কেবিনেট কমিটি এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বিরোধ নিস্পত্তি কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের (সমন্বয়) নেতৃত্বে ৫ জন সদস্য থাকবেন। এতে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি এবং বিবদমান দুই মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব বা প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (সমন্বয়) সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন। কমিটি বিরোধ নিস্পত্তির ক্ষেত্রে অন্য কোন সদস্যকে কো-অপ্ট বা বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ করতে পারবে।
মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, সিনিয়র মন্ত্রীর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের আপিল কমিটির সদস্য হবেন আইনমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব বা প্রধানমন্ত্রীর সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ। প্রয়োজনে এ কমিটি অন্য কোন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।
এছাড়া, মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে আজ পূর্ববর্তী ‘বঙ্গবন্ধু সেতু আইনের’ স্বীকৃতি দিয়ে ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৫’র চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এ আইনের অধীনে সেতু কর্তৃপক্ষ সেতু, টানেল, টোল রোড, এক্সপ্রেস ওয়ে, এলিভেটেট এক্সপ্রেস ওয়ে, দেড় হাজার মিটার বা বেশি দীর্ঘ রিং রোড নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। কর্তৃপক্ষের অধীন স্থাপনা বা স্থাপনার অংশ বিশেষ ব্যবহারকারী সংস্থা, পরিবহন ও ব্যক্তির কাছ থেকে টোল বা ফি আদায় করার কর্তৃত্ব এই সেতু কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে।
এই কর্তৃপক্ষের কার্য পরিচালনা ও প্রশাসনের জন্য সেতু ও পরিবহন মন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি বোর্ড থাকবে। বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান হবেন সেতু বিভাগের সচিব।
সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালনা, তহবিল ব্যবস্থাপনা ও বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জন্য সরকার কর্তৃক নিয়োজিত একজন নির্বাহী পরিচালক থাকবেন।
বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে সেতু কর্তৃপক্ষ তহবিলের অংশ বিশেষ লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে।
মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, এ আইনে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি বা সেতু কর্তৃপক্ষের কোন সীমানা প্রাচীর, কোন নোটিশ ও ট্রাফিক সাইন নষ্ট করা হলে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা এবং কর্তৃপক্ষের কোন আদেশ ও নোটিশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা করা হতে পারে।
মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিকের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। তিনি আজ সকালে নগরীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মন্ত্রিসভা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়।
বৈঠকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান ও নৌপরিবহন সচিব শফিক আলম মেহেদীকে জনপ্রশাসনে তাদের দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।