ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:১৩ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

এনবিআর
এনবিআর

ভ্যাট আইনে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়বে না

মূল্য সংযোজন কর আইন ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ কার্যকর হলে ভোক্তা পর্যায়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পরিসেবা বিদ্যুতের মূল্য বাড়বে না বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

ভ্যাট কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন আইনের আওতায় বিদ্যুতের ভোক্তা পর্যায়ে দাম হ্রাস বা বৃদ্ধি না করেও বিদ্যুত্ বিভাগকে সামগ্রিকভাবে কম পরিমাণ ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এতে ভর্তুকির পরিমাণ কমে আসবে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

মঙ্গলবার এনবিআর থেকে বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ে বিদ্যুত্খাতের ওপর নতুন ভ্যাট আইনের প্রভাব এবং করণীয় বিষয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ কথা বলা হয়েছে।

এনবিআর সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, নতুন আইন বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুিবভাগ অনেক বেশি লাভবান হবে। যেহেতু বিদ্যুত্ বিভাগ ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুত্ বিক্রি করে থাকে, তাই উত্পাদন খরচও বেশি। বর্তমানে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হয়। উত্পাদন পর্যায়ে অব্যাহতি এবং বিতরণ পর্যায়ে সংকুচিত ভিত্তিমূল্যভিত্তিক ভ্যাট প্রদানের ফলে উত্পাদন পর্যায়ে গ্যাস, তেল, কয়লাসহ সকল উপকরণে পরিশোধিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট ফেরত পাওয়া যায় না। ভোক্তা প্রত্যক্ষভাবে ৫ শতাংশ এবং পরোক্ষভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করছেন। বিদ্যুত্ বিভাগ সরকারকে এ ভ্যাট পরিশোধ করছেন। ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনের বিচ্যুতির কারণে এমনটি হচ্ছে। নতুন আইনে এ ধরনের সকল বিচ্যুতি দূর হবে। নতুন আইনের আওতায় বিদ্যুতের ভোক্তা পর্যায়ে দাম হ্রাস বা বৃদ্ধি না করেও বিদ্যুত্ বিভাগকে সামগ্রিকভাবে কম পরিমাণ ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এতে ভর্তুকির পরিমাণ কমে আসবে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নতুন আইনে পণ্য বা সেবার সরবরাহের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১৯৯১ সালের আইনের আওতায় মূসকসহ এবং মূসক ব্যাতীত উভয় প্রকারের মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রচলিত আছে। করদাতা যে কোন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। নতুন আইনে কেবল মূসকসহ মূল্য রাখা হয়েছে। করদাতাকে সকল মূল্যের মধ্যেই মূসক হিসাব করতে হবে।

এ বিষয়ে একটি হিসাব তুলে ধরে এনবিআর বলছে, ধরা যাক-১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন অনুযায়ী এক ইউনিটের বিদ্যুতের গ্রাহক পর্যায়ে মূসক ব্যতীত বিক্রয়মূল্য ৯ টাকা হলে, বিতরণ পর্যায়ে প্রযোজ্য ৫ শতাংশ হারে মূসকের পরিমাণ হয় ৪৫ পয়সা। ফলে গ্রাহকের বর্তমানে পরিশোধিত মোট মূল্য ৯ দশমিক ৪৫ টাকা। নতুন আইনে যদি গ্রাহকের পরিশোধিত বিদ্যুতের মূল্য অভিন্ন রাখা হয়, সেক্ষেত্রে পরিশোধিত মোট মূল্য ৯ দশমিক ৪৫ টাকায় অন্তর্ভূক্ত মূসকের পরিমাণ ১ দশমিক ২৩ টাকা (১৫ শতাংশ ধরে)। বিদ্যুত্ উত্পাদনের সময় ক্রয়কৃত উপকরণের ক্রয়মূল্য বা উত্পাদন মূল্য বাস্তবিক অর্থে ৯ টাকার চেয়ে বেশি বিধায়, বিদ্যুত্ বিতরণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিদ্যুত্ ক্রয়কালে পরিশোধিত মূসকের পরিমাণও বেশি। পরিশোধিত মূসক (উপকরণ কর) গ্রাহক হতে সংগৃহীত মূসক (উত্পাদন কর) অর্থাত্ ১ দশমিক ২৩ টাকার চেয়ে বেশি হলে বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত মূসকের অর্থ রিফান্ড হিসেবে ফেরত পাবে। একইভাবে উপকরণ আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত মূসক যদি উত্পাদন ও বিতরণ পর্যায়ে প্রদেয় মোট মূসক অপেক্ষা বেশি হয়, সেক্ষেত্রে বিদ্যুত্ বিভাগকে অতিরিক্ত কোন মূসক পরিশোধ নাও করতে হতে পারে। -বাসস।