শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৫৭ ঢাকা, শনিবার  ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

ড. কামাল হোসেন
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন

ভোট কেন্দ্র পাহারার অর্থ কি গৃহযুদ্ধ করা?

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার অর্থ কি গৃহযুদ্ধ করা? নিজেদের অধিকার নিজেদের ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনে জনগণকেই ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়া মানে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে দেয়া নয়। জনগণের ভোটাধিকার পাহারা দিতে হবে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘লঞ্চিং গণফোরাম-লেড পাবলিক পলিসি ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- দলটিতে সদ্য যোগ দেয়া অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়াও।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা মোকাব্বির খান, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, রফিকুল ইসলাম পথিক, মোহাম্মদ উল্লাহ মধু।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, যথাসময়ে নির্বাচন হওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

তিনি বলেন, ভোট কারচুপির আশঙ্কা তো সব দেশে সব নির্বাচনেই হয়। আমাদের এখানেও আশঙ্কা রয়েছে। অর্থ, অস্ত্র, ক্ষমতার মধ্য দিয়ে কেউ কিছু চাইলেই তো হবে না, আমরা ঐক্যের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাব। ভোট দেয়ার প্রক্রিয়ায় কেউ বাধা দিলে সেটা হবে স্বাধীনতাবিরোধী। ভোট জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন শুধু তারাই বঞ্চিত হবে না, পুরো দেশের মানুষ বঞ্চিত হবেন।

আসন বণ্টন-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের ব্যাপারে তিনি বলেন, পিঠা ভাগাভাগি করতে গেলে কিছু টানাটানি তো হবেই। ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা তো এত দ্রুত ঐক্য গড়ে তুলত পারব তা ভাবিনি। মাত্র দেড় ঘণ্টার মধ্যে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম।

তিনি জানান, জাতীয় ঐক্যজোট ও বিএনপির মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনো সংকট হয়নি।

ড. কামাল হোসেন বলেন, জোট হলে তো আসন ভাগ করতেই হয়। আলোচনা কিছুটা শুরু হয়েছে। তবে এটা কঠিন কাজ। এ ভাগাভাগিতে কেউ পাবে, কেউ পাবে না। তবে যে পাবে না সে তার পাওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবে।

ফাঁস হওয়া বিএনপির দুই নেতার ফোনালাপে ‘ব্ল্যাকমেইল’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে করা আরেক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, আশা করছি এ ধরনের ভাষা ব্যবহার হবে না। ভাষার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে লালন করতে হলে রাজনীতিবিদসহ সবাইকে মার্জিত ভাষা ব্যবহার করতে হবে।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ঔপনিবেশিক আমলে আমরা শোষক-শাসক শব্দ ব্যবহার করেছি। প্রতিপক্ষ হুমকি দিয়ে ‘দেখে নেব’- এসব শব্দ এখন না ব্যবহার করা উচিত। আসলে বিভিন্ন রাজনৈতিক আমলে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ঢুকে পরে এ ধরনের শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। সে সময় কোনো কারণ না বলে মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হতো।

তিনি বলেন, অনেক লোক একাত্তরে জীবন দিয়েছে। কিন্তু এখনও রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন হয়নি। তাহলে প্রশ্ন এত লোক জীবন দিল কেন? স্বাধীনতার অর্থই হলো জনগণ ক্ষমতার মালিক। এ দেশের মানুষ এখনো ভালো মানুষকে সম্মান করে। তারা ভালো মানুষকে মূল্যায়ন করতে ভুলে যায়নি।