Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৩২ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

“ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা”

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই দেশের জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে।

তারা বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণে তা তুলে ধরা হয়েছে। ভাষণে দেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকরীদের ও মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করে জাতিকে কলংকমুক্ত করা হয়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। দেশে এখন আইনের শাসন নিশ্চিত হয়েছে।

গত ২৪ জানুয়ারি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি তা সমর্থন করেন।

গত ২২ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশন শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ২১তম দিনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সরকারি দলের আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, অনুপম শাহজাহান জয়, কবিরুল হক, নজরুল ইসলাম চৌধূরী, স্বতন্ত্র সদস্য রহিম উল্লাহ ও জাতীয় পার্টির বেগম নূর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ থেকে সহজেই ধারণা করা যায় যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা কোনদিনও বাস্তবায়িত হতো না, যদি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সেদিন বঙ্গবন্ধু হত্যার আগে বিদেশে চলে না যেতেন। আর শেখ হাসিনা যদি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব না নিতেন, তাহলে দেশ কোনদিনও উন্নয়নের মহাসড়কে পৌঁছতে পারতো না।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হৃদয় ছিল বিশাল। তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হৃদয় আরো অনেক বিশাল। সব ভুলে গিয়ে তিনি সবাইকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী ন্যায় ভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। বর্তমান সরকারের গতিশীল নেতৃত্বে জিডিপির প্রবৃদ্ধি এখন ৭ দশমিক ১১ তে পৌঁছেছে। পদ্মা সেতু যথাসময়ে নির্মিত হলে প্রবৃদ্ধি ৮ ছাড়িয়ে যেতো। এখন মাথা পিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলার।

মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার ৮০টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। একটি জনবান্ধব সরকারের পক্ষেই এ ধরনের কাজ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, পূর্বাচল একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি হবে পরিবেশবান্ধব, পরিকল্পিত একটি নগর। এ প্রকল্পের প্রায় ৬০ শতাংশ খোলা স্থান রাখা হয়েছে। পূর্বাচলের পরিবেশ সুরক্ষায় ৪৮ কিলোমিটার লেক করা হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে অল্প জমিতে অধিক সংখ্যক মানুষের বাসস্থান নিশ্চিত করতে পূর্বাচলে ৬২ হাজার এ্যাপার্টমেন্ট তৈরী করা হবে। ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ১৩ হাজার এ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পে ৬ হাজার ৬৩৬টি এ্যাপার্টমেন্টের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এপ্রিল মাস থেকে পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ প্রাপ্তদের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়াও উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পের ১০টি ভবনে ৮ হাজার ৪শ’ ফ্ল্যাট জি টু জি’র পদ্ধতিতে নির্মাণের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বংলাদেশ একটি আত্মপ্রত্যয়ী স্বনির্ভর দেশে পরিণত হচ্ছে। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নিলে শেখ হাসিনাই স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দেন নিজস্ব অর্থায়নেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মিত হবে। আর সে অনুযায়ী আজ পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে। ২০১৮ সালের মধ্যে এ সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

তারা বলেন, শুধু তাই নয়, দেশ এখন সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের বর্তমান অর্থনীতির আকার ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশী। জিডিপির দিক থেকে এটা বিশ্বের ৪৪তম এবং ক্রয় ক্ষমতার দিক থেকে ৩২তম অর্থনৈতিক শক্তি। মাথা পিছিু আয় বর্তমানে ১ হাজার ৪৬৬ ডলার, রফতানি আয় ৩৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। তাছাড়া সরকারের গত ৮ বছরে দেশে দেড় কোটি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর এ সময়ে ৫ কোটি মানুষ নি¤œ বিত্ত থেকে উচ্চ বিত্তে উন্নীত হয়েছে।

তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল লোভ-লালসার উর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

তারা বলেন, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশের যোগাযোগ খাতসহ বিদ্যুৎ জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

তারা দেশে বিদ্যুৎ খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে উল্লেখ করে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ এখন পরমাণু ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে।