Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:১০ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

ভূমি অফিসের দুর্নীতি নিয়ে গণশুনানিতে প্রশ্নের মুখে কর্মকর্তারা

ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি বা দুর্নীতির শিকার হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের নিয়ে বৃহস্পতিবার এক গণশুনানি করেছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ঢাকার পাঁচটি এলাকার ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সামনে হয়রানির শিকার হওয়া এসব মানুষ দালিলিক প্রমাণাদি সহ সেখানে উপস্তিত হন, প্রশ্নের মুখে ফেলেন কর্মকর্তাদের। ভূমি অফিসকে বলা হয় দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ঢাকার তেঁজগায়ের সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। মুল গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে টেবিল চেয়ার নিয়ে সারি সারি বসে আছেন কিছু মানুষ। নিজেদের তার দলিল লেখক হিসেবে পরিচয় দিলেন। এখানেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন আবুল হোসেন খান। বছর দেড়েক আগে তিনি তার জমির দলিল হারিয়ে ফেলেন।
দলিল হারানোর পর এখন পর্যন্ত মি. খান কয়েক দফা বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোন সুরাহা করতে পারেন নি।
ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় এক একর দশ শতাংশ জমির মালিক নবী হোসেন। তথ্য হালনাগাদ করতে যেয়ে তাকে দুই বার এই অফিসে তাকে ঘুষ দিতে হয়েছে বলে জানাচ্ছিলেন।
ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মকর্তাদের ঘুষ নেয়ার বিনিময়ে কাজ করা এবং অফিস চত্বরের দালালদের দৌরাত্বের কথা কম-বেশি যারা ভূমি অফিস গুলোতে যাতায়াত করেন তাদের প্রায় জানা।
এসব বিষয়কে জনসম্মুক্ষে আনা এবং সরকারি অফিসে সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হ্ওয়াদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মুখোমুখি করে এক গণশুনানির আয়োজন করে দুদক।
রাজধানীর গুলশান, তেজগাঁও ও কোতোয়ালি জোনের সহকারি কমিশনারেরা এবং তেজগাঁও, গুলশান ও সূত্রাপুরের সাব-রেজিস্ট্রারেরা এসব ভুক্তভোগী মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেন। তারা ভূমি অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অসাধুতার কথা উল্লেখ করেন।
তেজগাঁও ভুমি অফিসের সহকারি কমিশনার নাজমা নাহারের কাছে জানতে চেয়েছিলাম ভুমি অফিসে সেবা নিতে যেয়ে মানুষ কেন এই হয়রানির শিকার হচ্ছেন? নাহার বলেন, ভূমি ব্যাস্থাপনা সম্পর্কে মানুষের পরিস্কার ধারণা নেই। তাই সমস্যাটাও তারা নির্ধারণ করতে পারেন না। ফলে দালালের কাছে যান, কিন্তু সঠিক জায়গায় তারা আসেন না।
ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা অধিকাংশ সময় এসব অভিযোগের জন্য সেবা গ্রহিতার অজ্ঞতাকে দায়ী করেন। বলা হয় দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে ভুমি অফিস অন্যতম। এ অবস্থায় একদিনের গণশুনানি সমস্যার মুলে কতটা পৌঁছাতে পারবে?
আয়োজকদের একজন দুদকের উপপরিচালক আবুবক্কর সিদ্দিক বলছিলেন, এসি ল্যান্ড এবং তার অধিনস্ত সেসব কর্মকর্তারা রয়েছেন তাদের দুর্নীতির কথা মানুষের সামনে আসছে। এখানে যারা ভুক্তভোগী তারা ঐসব কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করছে। তাই আমাদের মনে হয় অবশ্যই আপনি যদি এখন এসব অফিসে যান তাহলে তাদের আচরণের পার্থক্য টের পাবেন।
ফাইল আটকে রাখা, পদে পদে ঘুষ দেয়াসহ বিভিন্ন রকমের হয়রানির কথা তুলে সাক্ষ্য দেন প্রায় ত্রিশজন ভুক্তভোগী। তবে এখানে এসে সাক্ষ্য দিলেও ভুমি অফিসের দুর্নীতি ও হয়রানি, গণশুনানি দিয়ে বন্ধ করা যাবে না সে ব্যাপারে নিশ্চিত এই ভুক্তভোগিরা।