ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:৫৭ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে হেলে পড়েছে ৯টি ভবন’

শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠল রাজধানী ঢাকাসহ গোটা দেশ। রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.৯।

বুধবার রাত ৭ টা ৫৫ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের মাওলাইক থেকে ৭৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। সংস্থাটি জানায়, ইন্ডিয়া-ইউরোশিয়া প্লেটের ঘর্ষণে এ ভূমিকম্প উৎপন্ন হয়। এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৩৪ কিলোমিটার গভীরে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, মিয়ানমারে রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
এছাড়া বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, উৎপত্তিস্থলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ৪২০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে মিয়ানমারে ছিল এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল।
মিয়ানমারের নিকটবর্তী হওয়ায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা অঞ্চলে এ ভূমিকম্প বেশি অনুভূত হয়।

শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে ঢাকার ভবনগুলো দুলতে থাকে। এ সময় আতংকিত লোকজন বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন ভবন থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। উদ্বিগ্ন অনেককেই মোবাইলফোনে আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ-খবর নিতে দেখা যায়।

ভূমিকম্পে আতংকিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে  রাজধানীর মগবাজার এলাকায় একটি মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্রসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় একশত লোক আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র পেতে দিনের আলোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। প্রাপ্ত সংবাদে চট্টগ্রাম ও ফেনীতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি।

ফেনী
ভূমিকম্পে সুলতানপুর গ্রামে একটি চারতলা ভবন অপর একটি পাঁচতলা ভবনের ওপর হেলে পড়েছে।

চট্টগ্রাম

পুলিশ, ফায়ারব্রিগেড, প্রতিনিধি ও স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ১টা) জানাযায় ভূমিকম্পে  চট্টগ্রামে ও ফেনীতে ভূমিকম্পে অন্তত ৯টি ভবন হেলে পড়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৮টি ​ও ফেনীতে ১টি। ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়িতে অন্তত ৫০/৬০ জন শুধু এখানে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ২১ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

ভূমিকম্পে বুধবার রাতে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ৮ নম্বর সড়কের ৫৩৮ নম্বর হোল্ডিংয়ের ছয়তলা ভবনটি পশ্চিমে প্রায় এক ফুট হেলে গেছে।
নগরের মোমিন রোডের ঝাউতলা এলাকায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন হেলে পড়ে আরেকটি ভবনের ওপর লেগে গেছে।

নগরের জিইসি মোড়ে পাঁচতলা একটি বাণিজ্যিক ভবনের ছাদ পাশের ছয়তলা ভবনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। ভবনে এপেক্স নামে জুতা কোম্পানির শো রুম রয়েছে।

নগরের হালিশহর বি-ব্লক আবাসিক এলাকায় পাঁচতলা এবং সাগরিকা শিল্প এলাকায় পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি পোশাক তৈরি কারখানার ভবন হেলে গেছে।

কোতোয়ালি থানাধীন আমতলা এলাকায় সিদ্দিক শপিং কমপ্লেক্সের সাততলা ভবনের ছাদ পার্শ্ববর্তী বি এম মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেটের আটতলা ভবনের ছাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।

১৭৫ জুবিলি রোডের এবি ব্যাংকের পাঁচতলা ভবনটি পাশের তিনতলা ভবনের ছাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।

এ ছাড়া আমতলা এলাকার দুটি বিপণিবিতানের ছাদ যুক্ত হয়ে গেছে।

নগরের রহমতগঞ্জ এলাকায় বিবেকাননন্দ নামের একটি কিন্ডারগার্টের স্কুল হেলে পাশের ভবনে যুক্ত হয়ে গেছে।

ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়িতে ইপিজেড এলাকার বিভিন্ন কারখানায় কমপক্ষে ৩০জন শ্রমিক আহত হন। বায়েজিদের আরেকটি পোশাক তৈরির কারখানায় হুড়োহুড়ি করার সময় কমপক্ষে আটজন আহত হন। এছাড়াও বিচ্ছিন্ন ভাবে ২০/২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। মোট ২১ জন চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন।