Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৪০ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

নীলফামারী
হসপিটাল জানায় হার্ট এটাকে মারা যায়।

ভুল চিকিৎসায় প্রসুতির মৃত্যুর অভিযোগ

মহিনুল ইসলাম সুজন, নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডোমারে ভুল চিকিৎসার ও অবহেলার জন্য এক প্রসুতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি বুধবার ডোমার বাসষ্টান সংলগ্ন পালর্স হসপিটাল এন্ড ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে ঘটলেও সারা ফেলেছে বৃহস্পতিবার পুরো উপজেলা জুড়েই । মৃত সুরমা বেগম (৩৫) ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ভোগডাবুড়ী মুক্তিরহাট গ্রামের নালু ইসলামের স্ত্রী।

nilphamari1

বৃহস্পতিবার বিকালে মৃত সুরমা বেগমের স্বামী নির্বাক নালু ইসলাম তার স্ত্রীর মারা যাওয়ার করুন কাহিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে জানান, আমি খুব গরীব মানুষ দিন মিলাই দিন খাই,গত মঙ্গলবার বিকালে আমার গর্ভবতি স্ত্রীর প্রসবের ব্যাথা উঠলে তাকে ডোমারের পালর্স হসপিটালে নিয়ে আসি, সেখানের ম্যানেজারকে চিকিৎসক কোথায় জানতে চাওয়া মাত্রই ম্যানেজার বলেন আগে ভর্তি করান, তারপর ডাক্তার এমনিতেই ছুটে  আসবে। তার কাথা মত আমার স্ত্রীর শারিরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তারাতারি ভর্তি করি। কিন্তু ভর্তি করা মাত্রই একজন নার্স এসে রোগিকে দেখে এবং তিনি বলেন ডাক্তার বাহিরে আছে ফোনে কথা বলেছি, আমাকে ওষুধ ও ইনজেকশন দিতে বলেছে। এরপর ওষুধ ও ইনজেকশন দেওয়ার পরে ধীরে ধীরে সুরমার পেটের ব্যাথা কমে যায়। এভাবে অনেক রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও আর প্রসবের ব্যাথা উঠে না। তখন ডাক্তারকে বললে তিনি বলেন তোমার স্ত্রীর পেটের বাচ্ছা পানি ছাড়া আছে, সিজার ছাড়া বাচ্ছা হবে না। আমি নরমালে বাচ্ছা প্রসবের চেষ্টারর কথা বলি, কিন্তু ডাক্তার বলে তা সম্ভব নয়। পরদিন বুধবার পর্যন্ত সুরমার পেটে ব্যাথা না থাকায় বাধ্য হয়ে সিজার করতে অনুমতি দেই। বুধবার সকাল ১০টায় আমার স্ত্রীকে অপারেশন রুমে নিয়ে যায় এবং ৪০ মিনিট পরে জানায় যে আমার কন্যা সন্তান হয়েছে এবং একটু পর মেয়ে বচ্চাকে আমার কাছে এনে দেয়। কিন্তু এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা পার হয়ে গেলেও আমার স্ত্রীর সাথে আমাকে দেখা করতে দেয় না, জানাতে থাকে এখনও জ্ঞান ফেরেনি। ঘটনাটি আমার সন্দেহ হওয়ায় পালর্স হসপিটাল এর ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করি অনেক হাতে পায়ে ধরার পর জানায় যে তোমার স্ত্রী সুরমা মারা গেছে। একথা শোনার পর আমি মাথা ঘুড়ে পরে যাই। আমি সুস্থ হওয়ার পর হসপিটালের সবাই আমাকে বলে ,কান্নাকাটি করে লাভ নেই যা হবার হয়ে গেছে,আমরা তো আর ইচ্ছে করে মারিনি। যে যাওয়ার চলে গেছে এখন তোমাকে কোন খরচ দিতে হবে না আমরাই তোমার সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

এভাবেই বলে তারাতারি নালুকে মৃত স্ত্রী সুরমা বেগম সহ বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার তাদের পারিবারিক কবরস্থানে মৃতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে পালর্স হসপিটাল ও ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারের সত্বাধীকারী ডা: একরামুল হককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সুরমা বেগম সিজার করার সময় হার্ট এটাকে মারা যায়।

এদিকে মৃতের পরিবারসহ এলাকাবাসী ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বে অবহেলাজনিত ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি জানিয়েছেন।