পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, ছবিঃ সংগৃহীত

‘ভুল করলে পরিণতি ভয়াবহ’ -পাক প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধ পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। দ্রুত আলোচনায় বসতে ভারতকে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, কোন পক্ষ হিসাবে ভুল করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। যার পরিণতি হবে ভয়াবহ। খবর ডনের।

এর আগে বুধবার সকালে জম্মু-কাশ্মীরে ভারতীয় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২ পাইলটসহ বিমান বাহিনীর ৬ কর্মকর্তা নিহত হন। এ সময় এক বেসামরিক নাগরিকও নিহত হন। খবর এনডিটিভির। তবে পাকিস্তান বলছে, তারা গুলি করে দুটি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করেছে। এর একটি আজাদ কাশ্মীর এবং অপরটি জম্মু কাশ্মীরে ভূপাতিত হয়েছে।

ইমরান বলেন, ‘আমাদের হামলা করার একটাই উদ্দেশ ছিল। সেটা হল আমরা ভারতকে বোঝাতে চেয়েছি যদি ওরা আমাদের দেশে ঢুকে হামলা করতে পারে তাহলে জবাব দিতে আমরাও পারি।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের মাটি থেকেই ভারতের দুটি মিগ বিমানকে নামান সম্ভব হয়েছে। আর তাই এখন সময় এসেছে যে আমরা সুস্থ বুদ্ধির ব্যবহার করি।’

ইমরান সতর্ক করে বলেন, ভারতকে বলতে চাই আমাদের দু’পক্ষের কাছে যে পরিমাণ অস্ত্র আছে তাতে হিসাবে ভুল করা চলে না। যদি ভুল করি তবে ভয়াবহ পরিণতি সামাল দেয়ার সামর্থ কী আমাদের আছে? এ ধরনের কাজ চলতে থাকলে বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না, মোদীর নিয়ন্ত্রণেও থাকবে না। আর তাই আমরা ভারতকে আলোচনায় বসতে অনুরোধ করছি।’

জম্মু-কাশ্মীরে ভূপাতিত হওয়া যুদ্ধবিমানটি শ্রীনগরের রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের পর বুদগামের একটি ফাঁকা জায়গায় বিধ্বস্ত হয়ে যায়। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা বিমানটির পাইলটদের বাঁচানোর চেষ্টা চালায়। সবশেষ জানা গেছে, এ ঘটনায় ৬ বিমান বাহিনী কর্মকর্তাসহ মোট ৭ জন নিহত হয়েছে।

আজাদ-কাশ্মীরে ভূপাতিত হওয়া ভারতীয় যুদ্ধ বিমানটির ছবি প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর-(আইএসপিআর)। আটক ২ ভারতীয় পাইলটের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেছে রেডিও পাকিস্তান।

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুরুতে বলা হয়, তাদের একটি বিমান কারিগরি ত্রুটির বিধ্বস্ত হয়েছে এবং আরেকটি বিমান পাইলটসহ নিখোঁজ। পরে নিখোঁজ হওয়া বিমানটির পাইলট পাকিস্তানের হেফাজতে রয়েছে বলে নিশ্চিত করে ভারত। আর জম্মু-কাশ্মীরে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি একটি হেলিকপ্টার ছিলো বলে দেশটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।