ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:২৯ ঢাকা, রবিবার  ২১শে অক্টোবর ২০১৮ ইং

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ
ভিয়েতনামের নেতা এবং তাঁর পত্নী নগুয়েন থাই হিয়েনকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, তাঁর পত্নী রাশিদা খানম স্বাগত জানান।

ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে ঢাকায় সংবর্ধনা

ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কুয়াং আজ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছলে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে সফরে এসেছেন।

ভিয়েতনামের নেতা এবং তাঁর পত্নী নগুয়েন থাই হিয়েন হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে ২১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, তাঁর পত্নী রাশিদা খানম ও কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী তাদের স্বাগত জানান। তাদের বহনকারী এয়ার ক্রাফটটি বিকেল ৩ট ৫২ মিনিটে বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ এয়ার ক্রাফট থেকে প্রেসিডেন্ট কুয়াং, তার পত্নী ও সফরসঙ্গীরা নেমে আসার পর দুই শিশু তাদেরকে ফুলের শুভেচ্ছা জানায়।

ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানোর সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মান আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক রাষ্ট্রপতি হামিদের সঙ্গে ছিলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, কূটনীতিক মিশনের প্রধানগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), পররাষ্ট্র সচিব, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে একটি অস্থায়ীভাবে নির্মিত ডায়াসের দিকে নিয়ে যান। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি যৌথ কন্টিনজেন্ট তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।

কর্মকর্তারা জানান, অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান শেষে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের উদ্দেশে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সফরকালে কুয়াং এ হোটেলেই থাকবেন।

২০০৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ত্রাণ দাক লুয়ংয়ের সফরের পর এটি গত ১৪ বছরে কোনো উচ্চপদস্থ ভিয়েতনামী প্রেসিডেন্টের এটাই প্রথম বাংলাদেশ সফর। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশকে প্রথম দিকে স্বীকৃতি দানকারী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম অন্যতম।
সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের থেকে ভিয়েতনামী প্রেসিডেন্টের সফরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

সোমবার সকাল ৮টার দিকে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করবেন এবং দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করবেন।

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি সাড়ে নয়টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। একইদিন সকাল ১০টায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক করবেন। বৈঠকে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কার্যসূচি অনুযায়ী, কুয়াংয়ের বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। সেখানে স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী তাঁর সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন। এর আগে বেলা আড়াইটায় হোটের সোনারগাঁওয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম বিকেল তিটায় ভিয়েতনামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে তাঁর সম্মানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

৬ মার্চ ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট সকাল সাড়ে নয়টায় বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ প্রধানের সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তিনি ভিয়েতনাম-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের একটি একটি বৈঠকে যোগ দেবেন এবং পরে তিনি ‘ভিয়েতনাম কালচারাল ডেজ ইন বাংলাদেশ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার ঢাকা ছেড়ে যাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানাবেন।