ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:০৭ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘ভাড়াটে রাজনীতি করেন খালেদা জিয়া’ : গাফফার চৌধুরী

একুশে গানের রচয়িতা, বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিষ্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেছেন, একাত্তরের শহীদদের সম্পর্কে বেগম জিয়ার মন্তব্য নিয়ে কোন কথা বলতে তার ঘৃণা হয়। তিনি বলেন, কোন দেশপ্রেমিক বাঙ্গালী তার দেশের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে তামাশা করতে পারে না। খালেদা জিয়া ও তার স্বামী চিরকাল পাকিস্তানী রাজনীতি করছেন। খালেদা জিয়া প্রমাণ করছেন তিনি দেশ প্রেমিক নন, দেশের রাজনীতি করেন না, পাকিস্তানীদের প্রেরণায় ও উৎসাহে ভাড়াটে রাজনীতি করেন।
গাফফার চৌধুরী আজ সোমবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার ক্ষমা চাওয়া উচিৎ কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য কোন দেশ হলে এর বিরুদ্ধে আইনের ব্যবস্থা নেয়া হতো। এটা দেশোদ্রোহিতা। শেখ হাসিনা তার মহত্বের জন্য হয়তো এটা করবে না।
তবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া প্রত্যাহার করলেও কিছু হবে না, ক্ষমাও চাইবেন না। কারণ ওনার পিছনে যে আন্তর্জাতিক শক্তি রয়েছে তাকে তারা উৎসাহিত করছে।
গাফফার চৌধুরী বলেন, তার রাজনীতির জন্যই তাকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে উচ্ছেদ হতে হয়েছে, বিএনপি একটি ভঙ্গুর দলে পরিনিত হয়েছে। তার এসব কথার উপযুক্ত জবাব পাবেন।
একুশে গানের রচয়িতা বলেন, কেবল আইন করে জঙ্গীবাদ দমন করা যাবে না। আমেরিকা যুদ্ধ করছে তারা পারছে না। যুব সমাজকে সংঘবন্ধ হয়ে সামাজিক চেতনা গড়ে তুলে এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারলে সমাধান হবে। শুধুু আইন নয়, পুলিশ নয় র‌্যাবও নয় এদের সাথে জনশক্তি যোগ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক চক্রান্তের সাথে দেশীয় চক্রান্ত যোগ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাথে শুধু জাতীয় চক্রান্তই ছিল না- তার সাথে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত যুক্ত ছিল। এটাও তাই। আন্তর্জাতিক চক্রান্তের সাথে দেশীয় চক্রান্ত যোগ না হলে জঙ্গিবাদ এভাবে ছড়াত না। এদের একেবারেই নিমূর্ল করা সম্ভব যদি জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
এর আগে তিনি ঢাকা থেকে তার মেয়ে বিনীতা চৌধুরীকে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে টুঙ্গিপাড়ায় আসেন। পরে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধীসৌধ বেদীতে পুষ্পমাল্য অপর্ণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করেন।
এসময় তার সাথে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান হাবিব, গোপালগঞ্জ জেলা প্রাশাসক মোঃ খলিলুর রহমান, গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার এসএম এমরান হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী লিয়াকত আলি লেকু, টুঙ্গিপাড়া পৌর মেয়র ইলিয়াস হোসেন সরদার, আওয়ামী লীগ নেতা এসএম আক্কাস আলিসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্থানীয় কবি-সাহিত্যিকরা উপস্থিত ছিলেন।