শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:১৭ ঢাকা, শনিবার  ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

ভারতে ২০১৩ সালে পুলিশের গুলিতে ১০৩ জন মারা গেছেন এনকাউন্টারের’ বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা

শীর্ষ মিডিয়া ২৩ সেপ্টেম্বর ঃ  ভারতে পুলিশের সঙ্গে কথিত গোলাগুলিতে অপরাধী বা উগ্রপন্থীদের মৃত্যুর ঘটনার বিরুদ্ধে এক গুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি আর এম লোধা এবং বিচারপতি রহিন্টন ন্যারিমানের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ বলেছে, কোনও ব্যক্তি অপরাধমূলক কাজ করলেও তার সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে – তাই সংঘর্ষের নাম করে তাদের মেরে ফেলা যায় না।
একটি মানবাধিকার সংগঠন পিপলস্ ইউনিয়ন অফ সিভিল লিবার্টিস বা পি ইউ সি এলের দায়ের করা একটি মামলার সূত্রে আদালত এই নির্দেশিকা জারি করে। ওই সংগঠনটি মহারাষ্ট্রে ‘এনকাউন্টার’ বা কথিত সংঘর্ষের নামে দাগী অপরাধীদের মেরে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে।  ভারতের জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিচারপতিরা বলেছেন যে ২০১৩ সালে পুলিশের গুলিতে ১০৩ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন। সংঘর্ষে ৪৭ পুলিশকর্মীরও মৃত্যু হয়েছে।
আদালতের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে কোনও অপরাধী বা উগ্রপন্থীর সম্বন্ধে কোনও গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেলে তা অবশ্যই লিখিতভাবে রেকর্ড করিয়ে রাখতে হবে স্থানীয় থানায়। এছাড়াও সংঘর্ষে কারও মৃত্যু হলে এফ আই আর করে সেটা স্থানীয় আদালতকে অবশ্যই জানাতে হবে।
আদলতের নির্দেশিকা আরও বলা হয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনাস্থলে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হবে। দুজন চিকিৎসকে দিয়ে মৃতদেহের ময়না তদন্ত করাতে হবে। আর গোটা ঘটনা অন্য এলাকায় কর্তব্যরত একজন উচ্চতর অফিসারকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। তদন্ত চলাকালীন সংঘর্ষে যাওয়া পুলিশ কর্মীদের নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়ে দিতে হবে।
সংঘর্ষ চলাকালীন কোনও অপরাধী যদি আহত হন, তাহলে দ্রুততার সঙ্গে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে আর তাঁর বয়ান রেকর্ড করাতে হবে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে।
বিচারপতিরা নির্দেশিকাগুলি জারি করার সময়ে বারে বারেই উল্লেখ করেছেন প্রথম তথ্য পাওয়ার সময় থেকে প্রতিটা পদক্ষেপের লিখিত রেকর্ড যেমন রাখতে হবে, তেমনই কোনও ক্ষেত্রেই দেরী করা চলবে না। প্রতিটা স্তরের অগ্রগতি স্থানীয় আদালতকে জানাতে হবে আর প্রতি ছয় মাসে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
সুপ্রীম কোর্ট আরও বলেছে যে সংঘর্ষে কোনও গুরুতর অপরাধী বা উগ্রপন্থী মারা গেলেই চটজলদি সেইসব পুলিশ কর্মীদের পুরষ্কৃত করা যাবে না – যতক্ষণ না ওই সংঘর্ষের তদন্ত সম্পূর্ণ হচ্ছে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেই কথিত সংঘর্ষে অপরাধী বা সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠে। ভারত-শাসিত কাশ্মীর বা উত্তরপূর্বের আসাম, মনিপুর অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে অনেককে এভাবে মেরে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অনেক মাওবাদী নেতা-কর্মীকেও কথিত সংঘর্ষে মেরে ফেলা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলি অভিযোগ করে থাকে।