Press "Enter" to skip to content

ভারতে বিটিভি’র সম্প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ : তথ্যমন্ত্রী

সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশায় আজ ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সম্প্রচার উদ্বোধন করা হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সোমবার বিকেলে ঢাকায় রামপুরাস্থ বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভারতে বিটিভির সম্প্রচার উদ্বোধন করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রথমবারের মতো বিটিভি ভারতে এর অনুষ্ঠান সম্প্রচার এবং একই সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত দূরদর্শন বাংলাদেশে এর অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সুযোগ পেলো। আজ ভারতীয় সময় সকাল ৯টা এবং বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৯টায় ভারতে বিটিভির সম্প্রচার শুরু হয় এবং এর ফলে ভারতের সকল মানুষ ২৪ ঘণ্টা বিটিভি দেখতে পারবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই দিনটিকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ভারতীয় প্রতিপক্ষ নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী চিন্তার ফলে এটি সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় তারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি চুক্তির মাধ্যমে সেখানে বিটিভি সম্প্রচারের যৌথ ঘোষণা দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ বছর ৭ মে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি ওয়ার্কিং চুক্তি সম্পাদিত হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখন দুই দেশের মানুষ এক অপরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে।

ভারতে বিটিভির সম্প্রচার শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবী যখন গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে তখন টিভি চ্যানেলগুলো রাষ্ট্রীয় সীমানায় বাধা থাকতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ মুহূর্তের মধ্যে সকল তথ্য জানতে পারে। আমি মনে করি, বর্তমানে গ্লোবাল ভিলেজে একটি দেশের টিভি চ্যানেল অন্য দেশে সম্প্রচারে কোনো সীমানা থাকা উচিত নয়।’

দুই প্রতিবেশী দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাদৃশ্যের উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সংস্কৃতির মধ্যে মিল রয়েছে এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের ভাষা একই।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক ও অন্তরঙ্গতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে।

দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ১০ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। আর সেই সম্পর্ক আরো নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে ভারতের বিটিভির এই সম্প্রচার। দু’দেশের মানুষে মানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সরকার ও এর জনগণের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে ড. হাছান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সরকার ও এর জনগণের সহযোগিতার কথা সবসময় স্মরণ রাখবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান ও ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে ভারতের সরকার ও এর জনগণের সহযোগিতার কথা স্মরণ করছি।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান এই দিনটিকে বিটিভির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ বলেন, ভারতে বিটিভি ও বাংলাদেশে ভারতের দূরদর্শন সম্প্রচারের পদক্ষেপের ফলে দু’দেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হবে।

বিটিভির মহাপরিচালক এস এম হারুন অর রশীদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।

ভারতের তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব অমিত খারে একটি ভিডিও বার্তা প্রেরণ করেন।

বিটিভি দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর মাধ্যমে আজ থেকে ভারতে অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করেছে।

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত চ্যানেল দূরদর্শনের ডিরেক্ট ট্যু হোম (ডিটিএইচ) প্ল্যাটফর্ম ডিডি ফ্রি ডিশের মাধ্যমে দেশটিতে বিটিভির এ সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

শেয়ার অপশন: