ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:০০ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ভারতে ধর্ষিতাকে ফের ধর্ষণ হাসপাতালে

ভারতের জামশেদপুরে ধর্ষিতা এক কিশোরী একটি হাসপাতালে ভর্তি হবার পর সেখানেই দ্বিতীয়বারের জন্য ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে পুলিশ বলছে।

ঝাড়খন্ড রাজ্য পুলিশ বলছে, জামশেদপুর লাগোয়া পরশুডি এলাকায় ২৬ জানুয়ারী নিজেরই প্রতিবেশী এক কিশোর ধর্ষণ করে ১৩ বছরের ওই মেয়েটিকে। ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়, আর নির্যাতিতা কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য জামশেদপুরের সরকার পরিচালিত এম জি এম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

রবিবার রাতে ওই হাসপাতালেরই এক নিরাপত্তা রক্ষী মেয়েটিকে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করে।

পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে ওই কিশোরীর মা জানিয়েছেন, “ওই নিরাপত্তা রক্ষী রবিবার সন্ধ্যায় তাকে মুড়ি কিনে আনতে বলে। মুড়ি নিয়ে ফিরে এসে তিনি দেখেন যে তাঁর মেয়ে হাসপাতারের বিছানায় বসে কাঁদছে। সে তার মা কে জানায় যে হাসপাতালের শৌচালয়ে নিয়ে গিয়ে ওই নিরাপত্তা রক্ষী কী করেছে তার সঙ্গে।“

ইস্পাত নগরী বলে পরিচিত জামশেদপুর শহর পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট চন্দন ঝা বলছেন, “হাসপাতাল বলছে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল যে বেসরকারী সংস্থাটি, ওই রক্ষী তাদেরই কর্মী। প্রায় ২৪ ঘন্টার চেষ্টায় সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে শম্ভূ মাহাতো নামের ওই রক্ষীকে।”

“কিশোরীকে এখন শহরের সবথেকে নামকরা হাসপাতাল – টাটা মেইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হচ্ছে। ধর্ষণের প্রমান না পাওয়া গেলেও ওই রক্ষীকে ছাড়া হবে না, কারণ শিশুদের যৌন হয়রাণি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনও শিশুকে ছুঁলেও সেটা অপরাধ বলে গণ্য করা হবে।“

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই বেসরকারী নিরাপত্তা এজেন্সির সঙ্গে হাসপাতালের চুক্তি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খোঁজ শুরু হয়েছে যে অপরাধের পরে শম্ভূ মাহাতোকে পালাতে হাসপাতালের কোন কোন কর্মী সাহায্য করেছিল।

ঘটনাচক্রে ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস মাত্র একদিন আগেই ওই হাসপাতালটি দেখতে এসে সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থাপণা উন্নত করতে পরামর্শ দিয়ে গিয়েছিলেন।

এই ঘটনা নিয়ে ঝাড়খন্ডের রাজ্য মহিলা কমিশন যেমন উদ্বেগ জানিয়েছে, তেমনই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। বিবিসি