ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:২১ ঢাকা, সোমবার  ২২শে অক্টোবর ২০১৮ ইং

ভারতে ‘তিন তালাক’ ব্যবস্থায় বদলের চিন্তা

ভারতের মুসলিম সমাজের শীর্ষ নেতারা চিন্তাভাবনা করছেন তিন তালাক ব্যবস্থা পরিবর্তনের।

ইসলামী ধর্মীয় অনুশাসন দেখাশোনা করে যে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, তারা বলছে একসঙ্গে তিনবার তালাক উচ্চারণ করে বিবাহ বিচ্ছেদ শরিয়া বিরোধী।

তিনমাসের মধ্যে তিনবার তালাক বললে তবেই সেই বিবাহ বিচ্ছেদ মান্যতা পাবে।

অন্যদিকে মুসলমান নারীদের ওপর করা একটি সমীক্ষায় জানা গেছে যে ৯২% ই চান মৌখিক তালাকের ব্যবস্থাটাই উঠিয়ে দেওয়া হোক।

ভারতের মুসলমান সমাজের একটা বড় অংশ মনে করছে যে প্রতিবার তালাক উচ্চারণ করার পরে বেশ কিছুদিনের ব্যবধান প্রয়োজন, যাতে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে বা তাঁদের পরিবারগুলিও আলাপ আলোচনা করে তালাকের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ পান।

কিন্তু দেখা যায় যে অনেক সময়েই একসঙ্গে তিনবার তালাক উচ্চারণ করেই বিবাহ বিচ্ছেদ করে দেন পুরুষেরা।

ভারতের মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড বলছে একসঙ্গে তিনবার তালাক উচ্চারণ করে বিবাহ বিচ্ছেদ শরিয়া বিরোধী।

ভারতের মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড বলছে একসঙ্গে তিনবার তালাক উচ্চারণ করে বিবাহ বিচ্ছেদ শরিয়া বিরোধী।

মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জাফরিয়াব জিলানি বলছিলেন, “বোর্ড অনেকদিন ধরেই বলে আসছে যে একসঙ্গে তিনবার তালাক উচ্চারণ করে বিবাহ বিচ্ছেদ অনুচিত, এটা ইসলামী অনুশাসনে একটা গুনাহ। কিন্তু তা স্বত্ত্বেও এই ব্যবস্থা চলছে”।

মি: জিলানির কথায়, বোর্ড তাই এবার কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

“ভাবা হচ্ছে যে তিনমাস সময়ের মধ্যে তিনবার তালাক উচ্চারণ করার ব্যবস্থা করা উচিত যাতে স্বামী এবং স্ত্রী আর তাঁদের পরিবারেরা বিচ্ছেদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারেন”, বলছিলেন জাফরিয়াব জিলানি।

কিন্তু আগেও যখন মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের অনুশাসন না মেনেই একসঙ্গে তিনবার তালাক উচ্চারন করেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে চলেছে, এবারে যে সিদ্ধান্ত উলোমাদের বৈঠকে নেওয়া হবে, সেটা কি সবাই মানবেন?

মি: জিলানি বলছেন, নিয়ম না মানলে জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে এবার থেকে। আর জরিমানার টাকা তুলে দেওয়া হবে তালাকপ্রাপ্ত নারীর হাতে, যাতে তিনি নিজের আর সন্তানদের দেখভাল করতে পারেন।

এ ছাড়াও তিন তালাক ব্যবস্থা নিয়ে আরও অনেক পরামর্শ আসছে বোর্ডের কাছে।

তিন তালাক ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য উলেমাদের কাছে একটা প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছিল, তার উত্তরে উলোমারাই এইসব পরামর্শ দিয়েছেন। এমাসের শেষদিকে আমরোহা শহরে উলেমাদের এক বৈঠকে চূড়ান্ত সিন্ধান্ত নেওয়া হবে।

একদিকে যখন তিন তালাক ব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা বলছে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, তখন এই মৌখিক তালাক প্রথাটাই তুলে দেওয়ার দাবী উঠছে মুসলমান নারীদের মধ্যে থেকে।

এক সমীক্ষায় জানা গেছে ভারতের মুসলনমান নারীদের প্রায় ৯২ শতাংশই চান মৌখিক তালাক ব্যবস্থা তুলে দেয়া হোক।

এক সমীক্ষায় জানা গেছে ভারতের মুসলনমান নারীদের প্রায় ৯২ শতাংশই চান মৌখিক তালাক ব্যবস্থা তুলে দেয়া হোক।

ভারতের দশটি রাজ্যে প্রায় ৫ হাজার মুসলমান নারীদের মধ্যে চালানো এক সমীক্ষায় জানা গেছে যে ৯২% নারী-ই চান মৌখিক তালাক ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হোক।

ওই সমীক্ষা চালিয়েছিল যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সেই ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলনের প্রধান নূরজাহান সাফিয়া নিয়াজ বলছিলেন, “শুধুমাত্র তিনবার তালাক উচ্চারণ করেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার ফলে মুসলমান নারীরা অত্যন্ত সমস্যায় পড়েন।

একদিকে তো সংসার শেষ হয়ে গেল হঠাৎ করে, অন্যদিকে নিজের আর সন্তানদের ভবিষ্যত কী হবে, কে বাচ্চাদের দায়িত্ব নেবে, এ নিয়ে কোনও আলাপ আলোচনাই করার সুযোগ পেলেন না ওই নারী।“

“বিবাহের সময়ে যদি পুরুষ এবং নারী – দুজনেরই সম্মতি নিতে হয় – ‘কবুল হ্যায়’ বলে, তাহলে বিচ্ছেদের সময়ে কেন শুধু পুরুষের সিদ্ধান্তে সেই বিয়ে ভেঙ্গে যাবে”! প্রশ্ন নূরজাহান সাফিয়া নিয়াজের।

ওই সমীক্ষায় আরও একটি তথ্য উঠে এসেছে – মুসলিম নারীদের ৮৮ % চান সেই সব কাজিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাঁরা তালাকের লিখিত নোটিশ নিয়ে নারীদের কাছে হাজির হন।

ওই নারীদের স্বামীরা নিজে স্ত্রীর সামনে হাজির না হয়েই তালাক দিয়ে দেন কাজিদের মাধ্যমে। আবার টেলিফোন, বা ফেসবুক, স্কাইপ বা ইমেইল করেও তালাক স্ত্রীকে তালাক দেন অনেক পুরুষ। বিবিসি বাংলা।