ভারতের আদালতে সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে ভারতের শিলং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তার বিরুদ্ধে শুনানী শেষে চার্জ গঠন করেছে আদালত। মামলার পররর্তী শুনানির তারিখ ৩০ জুলাই ধার্য্য করা হয়েছে। মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বুধবার সকাল ১১টায় শুনানির কথা থাকলেও স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটায় সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেন আদালত।

মামলা নিষ্পত্তিতে কত দিন সময় লাগতে পারে-এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটি আদালতের একান্ত বিষয়। কতদিন সময় লাগতে পারে তা বলা সম্ভব নয়। তবে আমি এ ধরনের যতগুলো মামলা পরিচালনা করেছি তার ৯০ ভাগই দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে।
আদালত সূত্র জানান, সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৭ জনকে। ভারতের আইনে অনুপ্রবেশের মামলায় ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় সর্বোচ্চ ৫ বছরের সাজা এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সালাহউদ্দিনের আইনজীবী এসপি মোহন্ত জানান, আদালতে যাব। আমার মক্কেলের বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করব। ইতিমধ্যে সালাহউদ্দিনের বাংলাদেশে গুম হওয়া ও পরবর্তীকালে নানা ঘটনার কাগজপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন বারবার বলেছেন, কে বা কারা তাকে এখানে (শিলংয়ে) রেখে যায়। তাই অবৈধ অনুপ্রবেশ নয়, নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আদালতকে বোঝানোর জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে নিখোঁজের দুই মাস পর চলতি বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে খোঁজ মেলে সালাহউদ্দিনের।
এরপর হাসপাতাল থেকে পুলিশ হেফাজতে নেয়ার পর ২৭ মে আদালতে তোলা হয় সালাহউদ্দিনকে। আদালতের নির্দেশে তাকে ১৪ দিন বিচারিক হেফাজতে রাখা হয়। এরপর ৫ জুন শিলংয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান সালাহউদ্দিন আহমেদ। জামিন পাওয়ার পর থেকে শিলংয়ে অবস্থান করছেন তিনি।
শিলং পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পি লামারাই সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে শুধু অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে চার্জশিট দেন। ৩ জুন পুলিশের পক্ষ থেকে মেঘালয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এ চার্জশিট জমা দেয়া হয়। চার্জশিটে সালাহউদ্দিন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ও দেশে বিভিন্ন মামলার বিচার এড়াতেই বৈধ ডকুমেন্ট ছাড়া ভারতে অনুপ্রবেশ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

সর্বশেষ সংশোধিত: , মাধ্যম: